‘১৭ বছরে পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখড়া তৈরি হয়েছে’: আইজিপি

‘১৭ বছরে পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখড়া তৈরি হয়েছে’: আইজিপি ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাট প্রতিনিধি

Published : ১৮:০৪, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে দেশের পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখড়া তৈরি করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, দেশে পুলিশের সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার। চলতি বছরে ২০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও একসঙ্গে এত সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণকেন্দ্র নেই।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি করতে হবে। দেশের উন্নয়নের জন্য কোনো শর্টকাট পথ নেই। সবাই মিলে সরকারকে সহযোগিতা না করলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন পুলিশপ্রধান।

কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান আইজিপি। জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এসব কমিটি কাজ করবে। তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা জানেন কার সন্তান কী করছে। তাই তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কমানো সম্ভব হবে।

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে দক্ষ সাইবার ইউনিট গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই ইউনিট গুজব ও মব প্রতিরোধে কাজ করবে।

দেশে যুবকদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, প্রতিবছর দেশে ২৭ লাখ বেকার যুক্ত হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে, অথচ তাঁদের কর্মশক্তি যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করছেন না, বরং অর্থ ব্যাংকে জমা রাখছেন। বিনিয়োগ না এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না।

মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান আইজিপি। তিনি বলেন, “গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি মাদকের কারণে। আগে ঘর পরিষ্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিষ্কার হবেন।” একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে এক প্রশ্নের প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, “গুজব, আপা আসবে, কে আসবে আর না আসবে, তা নিয়ে আমাদের প্রশাসনের, কমিউনিটি পুলিশের কোনো ভাবনা নেই।”

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পারভীন আক্তার, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রদীপ বসু শন্তুসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সমাবেশে উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement