সাংবাদিকদের হুমকি, আব্বাসীকে আইনি নোটিশ
Published : ১৮:৪৬, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সাংবাদিকদের নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য ও শারীরিক আক্রমণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত ইসলামী বক্তা ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রকাশ্যে ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) নিম্ন আদালতের পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম সুজনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে মানহানি, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ফৌজদারি ও অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ১৯ অক্টোবর রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। এ সময় সাম্প্রতিক একটি মাদকবিরোধী অভিযান এবং তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র হাতে চলাফেরার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।
বক্তব্যে আব্বাসী বলেন, প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশ্য সৎ হলেও পিস্তল হাতে নেওয়ার পদ্ধতি ভুল ছিল। একই সঙ্গে এ ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে সাংবাদিকদের একটি বড় অংশকে ‘খারাপ’ উল্লেখ করে তাঁদের ‘কুত্তার মতো পেটানো দরকার’ বলে মন্তব্য করেন আব্বাসী। এ ছাড়া সাংবাদিকদের একাংশকে ‘হলুদ সাংবাদিক’ এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী বলেও অভিহিত করেন তিনি।
তাঁর এসব মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিকদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়।
সমালোচনার মুখে ২১ অক্টোবর নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন আব্বাসী। তাঁর দাবি, তিনি সব সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে এমন মন্তব্য করেননি; বরং অর্থের বিনিময়ে অপসাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সমালোচনা করেছেন।
এ ঘটনার পর এবার তাঁর বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হলো। তবে আইনি নোটিশ পাঠানো মানেই অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন নয়।































