ডিসিসিআইয়ের তথ্য: অন্তর্বর্তী সরকারে চাঁদাবাজি বেড়েছে ২০-৫০%

ডিসিসিআইয়ের তথ্য: অন্তর্বর্তী সরকারে চাঁদাবাজি বেড়েছে ২০-৫০% ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৪৪, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশে চাঁদাবাজির মাত্রা ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে বহুমুখী চাঁদাবাজির চাপে রয়েছেন।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চাঁদাবাজির সঙ্গে কারা জড়িত—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের কিছু ব্যক্তি, পুলিশ সদস্য এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মহল এই অপকর্মে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাসকীন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন সময় পরিচয় দিয়ে বলা হয় তারা সরকারি দলের লোক এবং তাদের চাঁদা দিতে হবে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, একই ধরনের দাবি করা হয়। কখনও অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলে, কখনও এলাকার নামে চাঁদা তোলা হয়—এভাবে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি এখন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রয়োজনে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, কারখানায় প্রবেশ করতে হলেও চাঁদা দিতে হয়। শুধু কারখানা নয়, অফিস পরিচালনা ও রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রেও চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য নতুন সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ও সুস্পষ্ট বার্তা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়নে চারটি অগ্রাধিকার খাতের কথা তুলে ধরেন। প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারি খাতে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তৃতীয়ত, যারা ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি নন, তাদের প্রয়োজনীয় ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল’ বা চলতি মূলধন সহায়তা দিয়ে পুনরায় ব্যবসা সচল করার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে ঋণের সুদহারকে যুক্তিসংগত ও সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদহার তুলনামূলকভাবে বেশি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছাবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement