৫ আগস্টের পরবর্তী মামলাগুলো যাচাইয়ের নির্দেশ পুলিশকে

৫ আগস্টের পরবর্তী মামলাগুলো যাচাইয়ের নির্দেশ পুলিশকে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:১৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যে সব মামলা দায়ের হয়েছে, সেগুলো পুনরায় পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সব অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের সামনে সেগুলো পর্যায়ক্রমে তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু মামলা সুবিধাবাদী ব্যক্তিরা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের নামেও মামলা হয়েছে। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এসব মামলা পুনরায় যাচাই করা হবে, যাতে নিরীহ কেউ হয়রানির শিকার না হন। এ লক্ষ্যে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুলিশ একটি প্রতিবেদন সরকারের কাছে দাখিল করবে। একইসঙ্গে বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাও পুনরায় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৈঠকের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের তিন মেয়াদে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্সগুলো খতিয়ে দেখা হবে। লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, কারা লাইসেন্স পেয়েছেন এবং তারা আদৌ যোগ্য ছিলেন কি না—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি জানান, যাচাই শেষে যারা প্রকৃতপক্ষে যোগ্য, তাদের লাইসেন্স বহাল থাকবে। তবে রাজনৈতিক বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে যেসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের চর্চা বন্ধ করতে হবে।

একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। জনগণের হয়রানি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না। যদি কেউ এমন কাজ করেন, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপাররা অনেক সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রটোকল দিয়ে থাকেন। এখন থেকে বিধি বহির্ভূতভাবে কাউকে প্রটোকল দেওয়া যাবে না।

পুলিশে ওসি ও এসপি পদায়নে লটারি পদ্ধতি বন্ধের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশের মধ্যে সুসংহত চেইন অব কমান্ড থাকতে হবে। লটারি পদ্ধতিতে পদায়নের ফলে অনেক সময় যোগ্য কর্মকর্তাকে উপযুক্ত স্থানে দেওয়া যায় না। অতীতে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতিও ছিল। ভবিষ্যতে যোগ্যতা অনুযায়ী পদায়ন নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থায়ী ঠিকানা জালিয়াতির মাধ্যমে পুলিশের কনস্টেবল পদে যারা নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোও তদন্ত করা হবে। তিনি বলেন, নাম-ঠিকানা জাল করে কেউ চাকরি নিয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখতে পুলিশকে বলা হয়েছে। তবে এতে যেন অযথা সবাই আতঙ্কিত না হন—সেই আশ্বাসও দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে বর্তমানে ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবল পদ শূন্য রয়েছে। দ্রুত এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২০০৬ সালে চাকরি হারানো প্রায় ৬৩০ জন পুলিশ সদস্যকে পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement