চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর এক যুবককে শাস্তি না দিয়ে ব্যতিক্রমী আচরণ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)–এর শিক্ষার্থীরা। তাকে টুপি পরিয়ে ইফতার করানো হয়, এমনকি তার অনুরোধে ইফতারের মুড়ির সঙ্গে জিলাপিও মেশানো হয়।
সম্প্রতি এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
জানা যায়, রমজান মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলে চুরি করতে প্রবেশ করেছিল এক যুবক। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সে শিক্ষার্থীদের হাতে ধরা পড়ে। তাকে মারধর না করে শিক্ষার্থীরা ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত নেন। তার মাথায় নামাজের টুপি পরিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করতে বলা হয়। শর্ত দেওয়া হয়, যদি সে শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে পারে, তবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এ সময় যুবকটি চুরি করতে আসার বিষয়টি স্বীকারও করে।
এরপর ইফতারের সময় হলে তাকে সঙ্গে নিয়েই ইফতারের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। কী খেতে ভালো লাগে—এমন প্রশ্ন করলে সে জিলাপির কথা জানায়। তার ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা জিলাপি কিনে আনেন এবং তার পছন্দ অনুযায়ী মুড়ির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ান।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্দেশ করে বলেন, তারা আগে কখনও ইফতারের সময় মুড়ির সঙ্গে জিলাপি মিশিয়ে খাননি। তবে সে যেহেতু জিলাপি চেয়েছে, তাই তার জন্যই বিশেষভাবে এভাবে পরিবেশন করা হচ্ছে।
ইফতারের সময় শিক্ষার্থীরা তার অনুভূতিও জানতে চান। জবাবে যুবকটি বলে, অন্য কোথাও এমন পরিস্থিতি হলে হয়তো তার সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হতো। কিন্তু এখানে তাকে মারধর না করে ভালো হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে ইফতার শেষ হলে ওই যুবককে সেনাবাহিনীর হেফাজতে দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন যুবকের মা। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাত্র তিন দিন আগে মাদক মামলায় হাজতবাস শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে। ছেলের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে যুবকটিকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।


































