থ্রেডস অব সেলিব্রেশন - ঈদে টুয়েলভের নকশায় নতুন উৎসবের সংজ্ঞা
Published : ১৩:৪২, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের ফ্যাশন শিল্পের চিত্রপটে কিছু নাম আছে, যেগুলো কেবল একটি ব্র্যান্ড নয়, সময়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা এক জীবনযাপন, এক রুচি, এক আত্মপরিচয়ের আরেক নাম। সাম্প্রতিক সময়ে সেই নামগুলোর অগ্রভাগে অনিবার্যভাবে উচ্চারিত হয় টুয়েলভ ক্লদিংয়ের নাম।
শহরের ব্যস্ত মোড়ে, আলোকোজ্জ্বল শোরুমে কিংবা উৎসবের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রঙিন পর্দায় টুয়েলভ যেন আজকের তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের হৃদস্পন্দনের সঙ্গে যুক্ত এক অবিচ্ছেদ্য উপস্থিতির পরিচয়বাহক। এবারের ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে তাদের নতুন কালেকশন সেই উপস্থিতিকে আরও গভীর, আরও নান্দনিক মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

ঈদ মানেই তো ফিরে যাওয়া নিজের কাছে, প্রিয়জনের কাছে, শৈশবের কাছে। দীর্ঘ এক মাসের সংযমের পর যখন রমজানের বিদায়ে আকাশে উঁকি দেয় পবিত্র শাওয়ালের চাঁদ, তখন বাঙালির প্রতিটি ঘরে ঘরে ওঠে সাজ সাজ রব।
নতুন পোশাকের গন্ধে ভরে ওঠে আলমারি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার এক নীরব উল্লাস। টুয়েলভের এবারের ঈদ কালেকশন সেই আবিষ্কারের গল্পই বলে। যার নাম দেয়া হয়েছে থ্রেডস অব সেলিব্রেশন। আত্মবিশ্বাসী, স্বতন্ত্র এবং আধুনিক এক বাঙালির ফ্যাশন রুচিতে যা রচনা করে ভিন্ন এক গল্প।

এই কালেকশনের মূল ভাবনা ঘুরে ফিরে এসেছে ঐতিহ্য ও সমসাময়িকতার মেলবন্ধনকে কেন্দ্র করে। পুরনো দিনের কারুকাজ, নকশা আর রঙের আবহকে আধুনিক কাট, সিলুয়েট ও টেক্সচারের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যেন প্রতিটি পোশাক নিজেই হয়ে উঠেছে একেকটি চলমান ক্যানভাস। এখানে উৎসব মানে কেবল চাকচিক্য নয়, আছে এক গভীর শিকড়ের টান, আছে বাঙালিয়ানার স্বতন্ত্র সুর।
নারীদের জন্য এবারের আয়োজন বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। সিল্ক, মসলিন, লন, কটন কিংবা ভিসকোজ, বিভিন্ন ধরনের কাপড়ে ফুটে উঠেছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। কোথাও মৃদু প্যাস্টেল, কোথাও উজ্জ্বল কোরাল বা এমেরাল্ড রঙের ব্যবহারে আছে ঋতুর উচ্ছ্বাস, আবার আছে সংযমের সৌন্দর্য।

লম্বা কুর্তা, ফ্লোই গাউন, সোজা কাটের থ্রি-পিস কিংবা এমব্রয়ডারির মৃদু ছোঁয়া, সব মিলিয়ে এমন এক বৈচিত্র্য, যেখানে প্রতিটি নারী নিজের মনের সঙ্গে মিলে যায় এমন একটি রূপ খুঁজে নিতে পারেন।
এবারের কালেকশনে বিশেষভাবে লক্ষণীয় সূচিকর্মের ব্যবহার। সূক্ষ্ম থ্রেডওয়ার্ক, জরি, সিকুইন কিংবা টোন-অন-টোন এমব্রয়ডারি, সবই করা হয়েছে পরিমিতির বোধ নিয়ে।
অতিরিক্ত অলঙ্করণ নয় বরং পরিশীলিত আভিজাত্যই এখানে মুখ্য। পোশাক যেন পরিধানকারীকে আড়াল না করে, বরং তার ব্যক্তিত্বকে আলোকিত করে তোলে এই দর্শন যেন স্পষ্ট প্রতিটি নকশায়।

পুরুষদের ঈদ আয়োজনেও টুয়েলভ রেখেছে বিশেষ অনুযোগ। পাঞ্জাবি বরাবরই ঈদের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। কিন্তু সেই পাঞ্জাবিকে কীভাবে প্রতিবার নতুন করে উপস্থাপন করা যায়, সেটিই যেন টুয়েলভের ডিজাইনারদের সৃজনশীল চ্যালেঞ্জ।
এবারের কালেকশনে দেখা যায় ক্লাসিক সাদা, অফ-হোয়াইট কিংবা প্যাস্টেল শেডের পাশাপাশি গাঢ় নীল, মেরুন ও অলিভ রঙয়ের ব্যবহার।
সোজা কাট, মিনিমাল কলার ডিটেইলস, মৃদু এমব্রয়ডারি কিংবা টেক্সচারড ফ্যাব্রিক, সব মিলিয়ে এমন এক আভিজাত্য, যা একই সঙ্গে ঐতিহ্যনির্ভর ও আধুনিক।
কিশোর ও তরুণদের জন্যও রয়েছে আলাদা ভাবনা। ট্রেন্ডি কাট, লেয়ারিংয়ের সুযোগ, আরামদায়ক ফ্যাব্রিক তৈরী করেছে এমন পোশাকী আমেজ, যা ঈদের নামাজ থেকে শুরু করে বিকেলের আড্ডা, কিংবা রাতে দাওয়াত, সব জায়গাতেই মানানসই।
এই প্রজন্ম ফ্যাশনে চায় নিজস্বতা, চায় স্বাচ্ছন্দ্য। টুয়েলভ সেই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে এমন ডিজাইন উপস্থাপন করেছে, যা আত্মপ্রকাশের ভাষা হয়ে উঠতে পারে।
শিশুদের পোশাকে আছে আলাদা মাধুর্য। ছোট্ট পাঞ্জাবি, ফ্রক বা সেট, সবকিছুতেই রঙের উচ্ছ্বাস, নরম কাপড়ের ব্যবহার এবং আরামের প্রতি যত্ন। ঈদের সকালে যখন পরিবারের সবাই একসঙ্গে ছবি তোলে, তখন এই ছোটদের পোশাকই যেন ছবির প্রাণ হয়ে ওঠে।

টুয়েলভের এবারের কালেকশন কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের কথা বলে না, এটি বলে অভিজ্ঞতার কথা। শোরুমে প্রবেশের মুহূর্ত থেকে শুরু করে পোশাক বেছে নেওয়া, ট্রায়াল রুমের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবির সঙ্গে কথা বলা, সবকিছু মিলিয়ে এক সম্পূর্ণ উৎসব-অভিজ্ঞতা। ব্র্যান্ডটি জানে, আজকের ভোক্তা কেবল একটি পোশাক কেনেন না, তিনি কিনে নেন একটি অনুভূতি, একটি মুহূর্ত, একটি স্মৃতি।
ঈদ মানেই তো পরিবার। মা, বাবা, ভাইবোন, সবার জন্য একসঙ্গে পোশাক কেনার আনন্দ। টুয়েলভের কালেকশনে সেই পারিবারিক বন্ধনের ছাপ স্পষ্ট। নারী, পুরুষ ও শিশু সবাইকে মাথায় রেখে পরিকল্পিত এই আয়োজন যেন একটি পরিবারের সামগ্রিক গল্প বলে।
একই রঙের ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইন, কিংবা একটি থিমকে কেন্দ্র করে সাজানো নানা ভ্যারিয়েশন, সবই উৎসবের দিনে মিলেমিশে এক হয়ে যাওয়ার অনুভূতিকে জাগিয়ে তোলে।
ফ্যাশনের ভাষা বদলাচ্ছে। গ্লোবাল ট্রেন্ড, ডিজিটাল প্রভাব, সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল রুচি, সবকিছুর মধ্যেও টুয়েলভ নিজের স্বকীয়তা ধরে রেখেছে।
তারা জানে, আন্তর্জাতিক প্রভাব গ্রহণ করা যায়, কিন্তু শিকড় ভুলে গেলে চলে না। তাই তাদের কালেকশনে যেমন আছে আধুনিক সিলুয়েট, তেমনি আছে দেশীয় নকশার অনুপ্রেরণা। এই সমন্বয়ই তাদের আলাদা করে।
ঈদের পোশাক অনেক সময়ই হয়ে ওঠে বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত কেনাকাটা। সেই প্রতীক্ষার মর্যাদা রাখতে টুয়েলভ গুরুত্ব দিয়েছে কাপড়ের গুণগত মান, ফিনিশিং এবং পরার আরামের ওপর।
গরমের এই সময়ে হালকা ও স্বস্তিদায়ক ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে দিনভর ব্যস্ততা কিংবা ভ্রমণেও স্বস্তি বজায় থাকে। ফ্যাশন যেন কখনোই অস্বস্তির কারণ না হয়, এই বার্তাই যেন লুকিয়ে আছে প্রতিটি সেলাইয়ে।
এই কালেকশন যেন রঙের এক কবিতা। কোথাও সূর্যাস্তের কোমল কমলা, কোথাও ভোরের আকাশি, কোথাও সবুজের প্রশান্তি। প্রতিটি রঙ যেন একেকটি অনুভূতি, আনন্দ, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার মিলন। ঈদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা মুহূর্তে এই রঙগুলোই হয়ে উঠবে স্মৃতির পটভূমি।
ফ্যাশন আবহে বলতে গেলে টুয়েলভ এবারের ঈদে কেবল একটি কালেকশন উপস্থাপন করেনি, তারা নির্মাণ করেছে এক আবহ। যেখানে ঐতিহ্য, আধুনিকতার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, যেখানে আভিজাত্য ও সরলতা পাশাপাশি হেঁটেছে, যেখানে ব্যক্তিত্ব ও পারিবারিক বন্ধন এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে।
ঈদ উল ফিতর আমাদের মনে করিয়ে দেয় কৃতজ্ঞতার কথা, সংযমের কথা, ভাগ করে নেওয়ার আনন্দের কথা। সেই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ যদি হয় একটি সুন্দর, আরামদায়ক, রুচিশীল পোশাকের মাধ্যমে, তবে তার গুরুত্বও কম নয়। টুয়েলভের এবারের আয়োজন সেই আনন্দকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলতে চায়।
পোশাক কেবল কাপড় নয়, এটি আত্মপ্রকাশের এক ভাষা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যখন কেউ নিজের চোখে নিজের প্রতিফলন দেখে মৃদু হাসেন, তখন সেই হাসির অংশ হয়ে যায় পোশাকটিও। টুয়েলভের ঈদ কালেকশন সেই হাসিরই অংশ হতে চায় উজ্জ্বল আলোকে, আত্মবিশ্বাসী রূপে এবং স্মরণীয় ভঙ্গিমায়।
এই ঈদে, নতুন চাঁদের আলোয়, যখন শহর জেগে উঠবে উৎসবের রঙে, তখন টুয়েলভের নকশাগুলোও হয়তো ছড়িয়ে পড়বে ঘরে ঘরে। প্রার্থনার শান্ত 
সাদা, মিলনের উষ্ণ রঙ, আর ভালোবাসার অনন্ত আভায় টুয়েলভ প্রকাশ করেছে তাদের এবারের ঈদ ফ্যাশন। ফ্যাশনের ভাষায় এটিই তো ঈদের সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা।
বিডি/এএন

































