উলিপুরে শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা নিয়ে বরাদ্দ ফেরত ও অর্থ বিতরণে অসঙ্গতির অভিযোগ

উলিপুরে শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা নিয়ে বরাদ্দ ফেরত ও অর্থ বিতরণে অসঙ্গতির অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

Published : ২০:০০, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ডাকযোগে গত ২৪ জানুয়ারী/২৬ লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নামে প্রায় এক কোটি টাকা শ্রান্তি বিনোদন ভাতা বরাদ্দ আসে। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ওই অর্থ শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি।

ফলে নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় সম্পূর্ণ অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত যায় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে পুনরায় শিক্ষকদের জন্য শ্রান্তি  বিনোদন ভাতার অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কিন্তু এবার অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ শিক্ষকের মূল বেতনের চেয়ে কম বা বেশি এবং কিছু ক্ষেত্রে দ্বৈত (ডাবল) হিসাব দেখিয়ে অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে শিক্ষক সমাজের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযোগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ নার্গিস ফাতিমা তোকদার এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর পূর্বে কর্মরত) মোঃ হাবিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ভাতা প্রদানে এ ধরনের অসঙ্গতির কারণে শিক্ষক সমাজের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অভিযোগ, ভাতার অর্থ নির্ধারণ ও বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। ফলে প্রকৃৃত প্রাপ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

যেসব শিক্ষকের ক্ষেত্রে কম বা বেশি অর্থ দেখানো হয়েছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি জানান ভুলবসত কম-বেশি হতে পারে তবে কাউকে শ্রান্তি বিনোদনের ভাতা ডাবল দেয়া হয়নি। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাঃ নার্গিস ফাতিমা তোকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না অফিসে আসেন, ব্যস্ত আছি বলে মোবাইল কল কেটে দেন। 

বিভাগীয় সহকারী পরিচালক মো: আমিনুল ইসলাম মন্ডল মুঠোফোনে বলেন অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement