জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাহসান খান ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদের দাম্পত্য জীবন এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ভাঙনের পথে—এই খবরে বিস্মিত হয়েছেন তাদের অনুরাগী থেকে শুরু করে শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই।
যে সম্পর্ক নিয়ে একসময় ছিল নানা প্রত্যাশা ও কৌতূহল, তা এত দ্রুত শেষের দিকে যাবে—এটা অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই মাস থেকেই আলাদা থাকছেন তাহসান ও রোজা। এরপর বছরের শেষ দিকে তাহসান নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্সের জন্য আবেদন করেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সেই আবেদন কার্যকর হতে সময় লাগবে প্রায় তিন মাস। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই এই বিচ্ছেদ চূড়ান্ত রূপ পাবে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কী এমন জটিলতা তৈরি হয়েছিল তাদের সম্পর্কে? কেন এত অল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে যাচ্ছে এই সংসার? এখনো পর্যন্ত তাহসান কিংবা রোজা—কেউই প্রকাশ্যে বিচ্ছেদের নির্দিষ্ট কোনো কারণ বা অভিযোগ তুলে ধরেননি। তবে সাম্প্রতিক ঘটনা, তাদের জীবনযাপন এবং পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে ভক্তদের মধ্যে কিছু সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রথমত, ভৌগোলিক দূরত্ব ও জীবনধারার পার্থক্য। তাহসান দীর্ঘদিন ধরেই পড়াশোনা ও কাজের প্রয়োজনে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে রোজা ছিলেন নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত পরিসরে ব্যস্ত। দীর্ঘ সময় আলাদা দেশে বসবাস করলে সম্পর্কের মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও একসঙ্গে দৈনন্দিন জীবন ভাগাভাগি না করতে পারলে দাম্পত্য সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়—অনেকের মতে, এই দম্পতির ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটেছে।
দ্বিতীয়ত, পেশাগত ব্যস্ততা ও চাপ। তাহসান একজন সক্রিয় ও ব্যস্ত শিল্পী। গান, কনসার্ট, মিডিয়া উপস্থিতি, পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষা—সব মিলিয়ে তার সময়সূচি ছিল টানটান। অন্যদিকে রোজাও তার পেশাগত লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। দুজনের জীবনের গতি ও অগ্রাধিকার এক না হলে সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তৃতীয়ত, তারকাজীবনের অতিরিক্ত জনদৃষ্টি। তাহসানের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে থাকে। নানা গুঞ্জন, বিশ্লেষণ ও অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য অনেক সময় সম্পর্কের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করে। বিশেষ করে একজন নন-শোবিজ পার্টনারের জন্য এই চাপ সামলানো আরও কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
চতুর্থত, সম্পর্কের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ ভাবনায় মতপার্থক্য। একটি বিয়ে টিকিয়ে রাখতে দুজনের মূল্যবোধ, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। সময়ের সঙ্গে যদি এই জায়গাগুলোতে দূরত্ব তৈরি হয়, তাহলে সম্পর্ক টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। ভক্তদের ধারণা, এই বিষয়গুলো নিয়েও তাহসান ও রোজার মধ্যে মতানৈক্য তৈরি হয়েছিল।
পঞ্চমত, বয়সের পার্থক্য থেকে মানসিক ব্যবধান। জানা যায়, ৪৬ বছর বয়সী তাহসানের সঙ্গে রোজার বয়সের ব্যবধান ১২ বছরেরও বেশি। বয়সের এই পার্থক্য সব সময় সমস্যা না হলেও, জীবনের অভিজ্ঞতা, ভাবনা ও অগ্রাধিকার ভিন্ন হলে তা সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকের মতে, দুই ভিন্ন প্রজন্মের মানুষ হিসেবে তারা সেই ব্যবধান পেরোতে পারেননি।
ষষ্ঠত, শোবিজে সবচেয়ে বেশি আলোচিত গুঞ্জনটি হলো—তাহসানের কন্যা আইরা তাহরিম খানকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি। তাহসানের ঘনিষ্ঠ কিছু সূত্রের দাবি, মেয়ের কারণেই তিনি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইরাকে কেন্দ্র করে সাবেক স্ত্রী মিথিলার সঙ্গে তাহসানের যোগাযোগ রোজা সহজভাবে নিতে পারছিলেন না। এই বিষয়টি ধীরে ধীরে সম্পর্কের টানাপড়েন বাড়িয়ে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথে ঠেলে দেয়।
সব মিলিয়ে, বিচ্ছেদের পেছনের প্রকৃত ও চূড়ান্ত কারণ কী—তা নিশ্চিতভাবে জানেন কেবল তাহসান ও রোজা আহমেদই। বাকিদের আলোচনা আপাতত অনুমান ও বাস্তবতার বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ।

































