ইরান যুদ্ধের মেয়াদ নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
Published : ১৬:২৭, ৫ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরান নিজের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির ইসলামী শাসন ব্যবস্থাকে রক্ষার জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই চালাচ্ছে।
৬ দিন ধরে চলা হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য আজ যেন এক বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ওয়াশিংটন যা সহজেই ইরানকে দমন করতে পারবে বলে ভেবেছিল, তা ইতিমধ্যে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, সহসা এই যুদ্ধ শেষ হবে বলে মনে করা কঠিন।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বুধবার (৪ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান মার্কিন সামরিক শক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রতি ঘণ্টায় ক্ষয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চার সপ্তাহ বলতে পারি, কিন্তু তা ছয়ও হতে পারে, আটও হতে পারে; এমনকি তিন সপ্তাহ পর্যন্তও চলতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা গতি ও সময়সীমা নির্ধারণ করব।”
হেগসেথ আরও দাবি করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরাকের ২০০৩ সালের যুদ্ধের তুলনায় দ্বিগুণ আকাশশক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
এছাড়া, এবারের অভিযান ইসরায়েলের পূর্ববর্তী ১২ দিনের যুদ্ধে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের তুলনায় সাত গুণ বেশি তীব্র। ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথের সঙ্গে ছিলেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন কেবল অভিযান শুরু করেছে, গতি কমাচ্ছে না বরং বাড়াচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী শেষ হয়ে গেছে এবং তারা তা বুঝতে পারছে বা খুব শিগগিরই বুঝবে। জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ৮৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তাদের নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে এবং উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব নিহত বা আত্মগোপনে রয়েছে। এই অগ্রগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এখন মার্কিন বাহিনী ধীরে ধীরে স্থলভাগে অভিযান বিস্তৃত করছে এবং ক্রমশ ইরানের অভ্যন্তরে আরও গভীর হামলা চালাবে।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ইরানের প্রতিরোধ এখনো কার্যকর। ড্যান কেইন জানিয়েছিলেন, ইরান হাজার হাজার একবার ব্যবহারযোগ্য স্বল্পমূল্যের আত্মঘাতী ‘শাহেদ’ ড্রোন মোতায়েন করেছে।
এসব ড্রোন ধীর গতিতে ও নিচু উচ্চতায় উড়ে সাধারণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে পারে এবং এ কারণে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি কার্যকর। মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ইরানের এই ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, কংগ্রেসের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবান ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
জেনারেল কেইন ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগের সঙ্গে একমত হলেও প্রকাশ্যে আশ্বস্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র মজুদ রয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলা উভয় ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ সক্ষম।
বাস্তবতা হলো, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক ব্যয় হচ্ছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে হেগসেথ বলেন, এটি নীতিনির্ধারকদের বিষয় এবং অভিযান কখন শেষ হবে তা স্পষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়।
বিডি/এএন






























