তিন দিন পর ভৈরবে মিলল নিখোঁজ ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ
Published : ১৫:০৮, ৫ মার্চ ২০২৬
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর আলমগীর হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রেললাইনের পাশের একটি নির্জন স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ বিসিক শিল্প নগর এলাকার বিপরীতে রেললাইনের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আলমগীর হোসেন ভৈরব বাজার জনতা ব্যাংকে অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি শায়েস্তাগঞ্জ জেলার সদরের নুরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ সরদারের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে আলমগীর হোসেন ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ১ মার্চ প্রতিদিনের মতো বাসা থেকে ব্যাংকের উদ্দেশ্যে বের হন তিনি। কিন্তু দুপুরের দিকে ব্যাংক থেকে তার স্ত্রীকে ফোন করে জানানো হয়, তিনি সেদিন কর্মস্থলে পৌঁছাননি।
এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় সেদিন রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর বুধবার স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের বড় ভাই মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার ইফতারের সময় তার ভাইয়ের স্ত্রী ফোন করে মরদেহ উদ্ধারের খবর দেন। পরে থানায় গিয়ে তারা দেখেন, আলমগীরের পরনের প্যান্ট কাটা ছিল এবং তার পা ও একটি চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে ওই নির্জন স্থানে ফেলে রেখে গেছে। নিহতের ভগ্নিপতি খালেদ আহমেদও ঘটনাটিকে রহস্যজনক ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, রেললাইনের পাশে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তা উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি/এএন


































