নিখোঁজ ৬ পারমাণবিক বোমা ঘিরে নতুন দুশ্চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র
Published : ১০:১০, ১১ মার্চ ২০২৬
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের হারিয়ে যাওয়া পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি।
কয়েক দশক ধরে নিখোঁজ থাকা অন্তত ছয়টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ঘিরে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিরর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, গত কয়েক দশকে অন্তত ছয়টি ঘটনায় দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র হারিয়ে যায় এবং আজও সেগুলোর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সামরিক পরিভাষায় এ ধরনের ঘটনাকে বলা হয় ‘ব্রোকেন অ্যারো’। সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র দুর্ঘটনার কারণে হারিয়ে যাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিকে এই নামে অভিহিত করা হয়।
মার্কিন সামরিক নথি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ৩২টি ‘ব্রোকেন অ্যারো’ ঘটনার রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ছয়টি পারমাণবিক ওয়ারহেডের অবস্থান এখনও অজানা রয়ে গেছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ১৯৫৮ সালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের টাইবি দ্বীপের কাছে আকাশে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে জড়িত একটি বি-৪৭ স্ট্রাটোজেট বোমারু বিমান একটি সম্পূর্ণ সশস্ত্র মার্ক-১৫ হাইড্রোজেন বোমা বহন করছিল।
দুর্ঘটনার পর বিমানের পাইলট আশঙ্কা করেন, বোমাটি বিস্ফোরিত হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি জর্জিয়ার উপকূলবর্তী ওয়াসাউ সাউন্ড এলাকায় সমুদ্রে বোমাটি ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রায় ৭ হাজার ৬০০ পাউন্ড ওজনের এই মার্ক-১৫ বোমার বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৮ মেগাটন। তুলনামূলকভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের নাগাসাকিতে নিক্ষেপ করা ‘ফ্যাট ম্যান’ পারমাণবিক বোমার চেয়েও এটি প্রায় ১৯০ গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল। কিন্তু দুর্ঘটনার পর বহুবার অনুসন্ধান অভিযান চালানো হলেও বোমাটির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে মার্কিন বিমান বাহিনী দাবি করেছিল, উড্ডয়নের আগেই বোমাটির প্লুটোনিয়াম ওয়ারহেড খুলে ফেলা হয়েছিল এবং তার জায়গায় সীসা বসানো ছিল। তবে ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত একটি কংগ্রেসনাল নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, টাইবি মার্ক-১৫ আসলে একটি অক্ষত পারমাণবিক অস্ত্রই ছিল।
এদিকে ১৯৬৬ সালেও একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। দুটি মার্কিন সামরিক বিমানের সংঘর্ষের পর ভূমধ্যসাগরে একটি বি-২৬ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা হারিয়ে যায়, যার ওয়ারহেডও এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে।
বর্তমানে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই নিখোঁজ পারমাণবিক অস্ত্রগুলো নিয়ে আবারও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি কোনোভাবে এসব অস্ত্র শত্রু রাষ্ট্র বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে পড়ে, তাহলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ্রি লুইস বলেন, যদি সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা সম্ভব না হয়, তাহলে দেশটি আবারও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের দিকে এগোতে পারে।
তার মতে, প্রযুক্তিটি পুরোনো হলেও প্রতিহিংসাপরায়ণ কোনো রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার মতো পথ বেছে নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তারা মনে করতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করা।
বিডি/এএন

































