হাদি সাথে কাফিকেও হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল

হাদি সাথে কাফিকেও হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২১:০৫, ১০ মার্চ ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে ভারতে পলাতক থাকা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী মাসুদুর রহমান বিপ্লব।

এই তথ্য প্রকাশ করেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি তার ফেসবুক পোস্টে, যেখানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িচালক রাজ্জাক মাতব্বরের ছেলে মো. রুবেল আহমেদ-এর জবানবন্দির উল্লেখ করেন।

তিনি লিখেছেন, রুবেল আহমেদ অতীতে ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ কলকাতার পার্ক হোটেলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরে বিভিন্ন প্রতিবেদনের পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার তৎপরতার কারণে তাকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ গভীর রাতে বছরিলা মেট্রো হাউজিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর ৩০ এপ্রিল ২০২৫ রুবেল আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হন। কিন্তু ২১ জানুয়ারি ২০২৬ মধ্যরাতে জামিনে থাকা অবস্থায় তাকে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। কারণ, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান রাহুল-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রুবেলকে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং মামলায় আসামি করা হয়।

পরবর্তী দিন, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ আদালতে রুবেলকে হাজির করে সিআইডি-র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঁঞা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত তাকে ৬ দিনের রিমান্ড দেন। রিমান্ড শেষে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ রুবেল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে রুবেল আহমেদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ছাত্রনেতা ওসমান হাদি এবং ইউটিউবার নুরুজ্জামান কাফি-কে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছে ভারতে পলাতক থাকা জাহাঙ্গীর কবির নানকের সহকারী বিপ্লব। তিনি জানান, ৩ নভেম্বর ২০২৫ তার উপস্থিতিতে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং অপর আসামি কামরুজ্জামান রুবেল ফোনে ফয়সালের কাছে নির্দেশ দিয়েছে।

রুবেল উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ এবং বিভিন্ন বাজে মন্তব্যের কারণে দুই ব্যক্তিকে হত্যার জন্য ২০–২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, বিপ্লব (নানকের পিএস) হত্যার কাজ কামরুজ্জামান রুবেল-কে দিয়েছে এবং সে কাজটি ফয়সাল-কে প্রদান করেছে, যার লক্ষ্য ছিল হাদিকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া।

রুবেলের জবানবন্দি থেকে বোঝা যায় যে, হত্যাকাণ্ডটি আওয়ামী লীগ নেতা নানকের সহকারী বিপ্লবের নির্দেশেই সংঘটিত হয়েছে। সাংবাদিক জুলকারনাইন আশা প্রকাশ করেছেন, ফয়সাল ও আলমগীরের মতো বিপ্লবকেও গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনার সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিপ্লব কার আদেশে হত্যার পরিকল্পনা দিয়েছে এবং অর্থের যোগানদাতাদের সনাক্ত করাও তদন্তের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ।

রুবেল জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, ৩ নভেম্বর ২০২৫ থেকে তিনি জানতেন যে ওসমান হাদি ও নুরুজ্জামান কাফিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং কারা এটি ঘটাতে পারে। কিন্তু তিনি তখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই বিষয়টি জানাননি, যদিও জামিনে মুক্ত ছিলেন।

জুলকারনাইন তার ফেসবুক পোস্টে ১৬৪ ধারায় দেওয়া রুবেলের জবানবন্দি, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি ও লিংকগুলোও প্রদান করেছেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement