নিরাপদ ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার

নিরাপদ ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১০:৫৬, ১১ মার্চ ২০২৬

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে নিরাপদ, আধুনিক এবং সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

হাবিবুর রশিদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী বাংলাদেশ গড়ার কার্যক্রম শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে এবং নিজেকে দেশের প্রকৃত মালিক হিসেবে মনে করবে। একইসঙ্গে মানুষের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়কে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্য সামনে রেখে ১৮০ দিনের বা ছয় মাসের পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও রেলপথ খাতেও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহন খাতে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দুর্ঘটনামুক্ত নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। এ খাতে বিদ্যমান দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে পরিবহন ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মানুষের জন্য আরও সহজ ও সুলভ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক, রেল ও নৌপথ—এই তিন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

হাবিবুর রশিদ বলেন, যেখানে সড়কপথে চলাচল সহজ ও কার্যকর সেখানে সড়ক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আবার যেখানে রেলপথে যাতায়াত দ্রুত ও সুবিধাজনক সেখানে রেলকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আর যেখানে বিকল্প নেই সেখানে নৌপথকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি কার্যকর, নিরাপদ ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, রাজধানী ঢাকার বাসস্টেশনগুলোকে আরও আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কিছু বাসস্টেশন বিকল্প স্থানে স্থানান্তরের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বাস কোম্পানির মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং ছোট-বড় সব ধরনের পরিবহনকে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত যানবাহনসহ ছোট যানবাহনগুলোকে আইনের আওতায় এনে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে মহাসড়ক ও প্রধান সড়কে বিশৃঙ্খলা কমে এবং দুর্ঘটনা হ্রাস পায়।

বিআরটিসি বাস সেবা পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিআরটিসিকে আরও জনপ্রিয় করতে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন সেবাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নারীদের বিআরটিসি বাসচালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যে নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আসন্ন ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, ঈদকে সামনে রেখে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাতে যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন এবং সড়কে যানজট কম থাকে।

তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সড়কের নির্মাণকাজের জন্য পড়ে থাকা মালামাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং ভাঙাচোরা সড়ক অস্থায়ীভাবে সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদের আগে রেলস্টেশন, বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদারকি করবেন।

গার্মেন্টস খাতের ছুটির কারণে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার বিষয়েও সরকার সচেতন রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা ধাপে ধাপে গার্মেন্টস ছুটি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রস্তুতির ফলে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement