মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম উর্ধ্বমুখী

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম উর্ধ্বমুখী ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:০১, ৯ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে আবারও তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার (৯ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গিয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখিয়েছে।

গ্রিনিচ মান অনুযায়ী রাত ২টা ৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)–এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮ দশমিক ২১ ডলারে। যদিও পরবর্তীতে কিছুটা কমেছে, তবু দাম এখনও উচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের আরেকটি প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৮ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই পরিস্থিতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, স্বল্পমেয়াদে তেলের এই দাম বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্ব ও শান্তির জন্য খুবই সামান্য মূল্য। তিনি আরও দাবি করেন, “ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে।”

তবে বাজার বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি স্বল্পমেয়াদে সীমাবদ্ধ থেকে দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রূপ নিতে পারে। ডাচ ব্যাংক আইএনজি গ্রুপের পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন বলেন, শুরুতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন এটি সাময়িক অস্থিরতা, কিন্তু এখন স্পষ্ট যে সমস্যা দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক না হবে, তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়ায়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ইতিমধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে।

সূত্র: এএফপি, আল আরাবিয়া

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement