রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নির্বাচনের দিন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নির্বাচনের দিন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:৫৪, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

নির্বাচনের সময় কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি চেকপোস্টে পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে কোনো প্রার্থী বা গোষ্ঠী নাশকতা চালাতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি সুরক্ষিত রাখতে ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা এবং অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি রয়েছে। তাই কোনো প্রার্থী যাতে রোহিঙ্গাদের ভোটকেন্দ্রে লোকবল হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, জাল ভোট দিতে না পারে এবং কেন্দ্রের পরিস্থিতি বিশৃঙ্খল করতে না পারে, সে বিষয়ে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ইসির পর্যালোচনায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় রোহিঙ্গাদের ব্যবহার।

অর্থের বিনিময়ে জাল ভোট প্রদান ও ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ ব্যবহার করে উসকানিমূলক বার্তা প্রচার।

সশস্ত্র গোষ্ঠী যেমন আরসা (ARSA), আরএসও (RSO) বা আরাকান আর্মির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসি ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১. চলাচলে নিষেধাজ্ঞা:
নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বাইরে আসা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া ক্যাম্পের ভেতরে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল সীমিত রাখা হবে।

২. বাজার ও এনজিও নিয়ন্ত্রণ:
অতিরিক্ত জনসমাগম এড়াতে ক্যাম্পসংলগ্ন বড় বাজারগুলো (বালুখালী, লেদা, নয়াপাড়া) সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ক্যাম্পে এনজিও কর্মীদের পরিদর্শনও সীমিত করা হবে।

৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ:
ক্যাম্পের ভেতরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। মসজিদের ইমাম ও মাঝিদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।

৪. যৌথ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত:
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য বিশেষ অভিযান চালানো হবে। তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিত করতে ক্যাম্পে পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন থাকবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আসন্ন নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মোট ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকবেন। ভোট গ্রহণের জন্য ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। পোস্টাল ভোটের জন্য আরও ১৫ হাজার কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement