ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস উপস্থাপনের অঙ্গীকার জামায়াতের

ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস উপস্থাপনের অঙ্গীকার জামায়াতের ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:১৬, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে। ‘জনতার ইশতেহার’ নামের এই ঘোষণাপত্রে মোট ২৬টি অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত প্রায় ৩৭ লাখ মানুষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চাহিদা মাথায় রেখেই এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।

ইশতেহারের অষ্টম অধ্যায়ে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে জামায়াত। এতে বলা হয়েছে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার—এই তিন ভিত্তির ওপর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠার জন্য কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে জুলাই বিপ্লবসংক্রান্ত নানা পরিকল্পনাও যুক্ত করেছে দলটি। সেখানে উল্লেখ করা হয়, জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতরকে আধুনিক ও টেকসই ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও যোদ্ধাদের জন্য মাসিক অনুদান ও ভাতা চালুর কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া জুলাই বিপ্লবে শহীদদের পরিবার এবং যোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ, কর্মযোদ্ধা হিসেবে পুনর্বাসন এবং আহত ও পঙ্গু যোদ্ধাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকারি কোষাগার থেকে বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত।

এদিকে সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক নির্বাচনি জনসভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেওয়ার আগেই মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি বিদ্রোহের ডাক দিয়েছিলেন।

তার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করতে হবে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, এখনো জামায়াত তাদের অতীত ভূমিকার জন্য অনুতপ্ত হয়নি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, স্বাধীনতার বিকল্প ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। জামায়াত আমিরের বক্তব্যের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কখনোই এ ধরনের রাজনীতি গ্রহণ করবে না।

কক্সবাজার-১ আসনের এই বিএনপি প্রার্থী প্রশ্ন তুলে বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, পাক-হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে কাজ করেছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মুক্তিযোদ্ধা হত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল—তাদের মুখে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ইতিহাস বর্ণনা কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটিও জনগণের বিবেচনার বিষয়।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement