নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা
Published : ২২:১৪, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেড় যুগ পর দেশের ইতিহাসে একটি জাতীয় নির্বাচন ও ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছে সর্বসম্মত জুলাই সনদের ওপর গণভোট। এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করেছিল, দেশের সর্বত্র ঈদের ছোঁয়া ছিল, যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়া সকলের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন, তাদের অভিনন্দন। যারা পরাজিত হয়েছেন, তাদেরও অভিনন্দন।
হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যারা জয়ী হয়েছেন, তারা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন, আর যারা জয়ী হননি, তাদেরও মোট ভোটের অর্ধেক মানুষের আস্থা ছিল। আগামী দিনে নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে এবং এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের দায়িত্ব সমাপ্ত হবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের মানুষ এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের মুক্তি, মর্যাদা ও আকাঙ্ক্ষার দাবি উচ্চারণ করেছিল। তখন দেশ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মানবিক সংকটে নিপতিত ছিল। রাষ্ট্রযন্ত্রে মানুষ আস্থা হারিয়েছিল, গণতন্ত্র ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ছিল। সেই সংকটময় সময়ে তাকে আহ্বান জানানো হয়েছিল—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন এই তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে দেশকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য।
তিনি বলেন, তার ও সহকর্মীদের প্রচেষ্টা ছিল সততার সঙ্গে। মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার রাজনীতি ও প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক সংস্কার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে না পারে। সর্বোপরি, একটি উৎসবমুখর, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে জনগণ আবার তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা এবং নতুন বাংলাদেশের জন্ম। এই অর্জনের পেছনে ছিলেন সেই সব প্রতিবাদী তরুণ-তরুণীরা, যারা জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন, শহীদ ও আহতরা—তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রক্রিয়াটি সফল করতে দেশের সকল নাগরিক সহযোগিতা করেছেন। রাজনৈতিক দলসমূহ, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের সদস্যরা আন্তরিকভাবে সহায়তা করেছেন। তাদের ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও আস্থার ওপর ভর করে এই পথচলা সম্ভব হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত হয়েছিল। দেড় বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্বাচনের পর নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল। আগামীকাল মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে, এবং এর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ।
বিডি/এএন




























