চীনা নববর্ষ ২০২৬ উদযাপিত বিশ্বমঞ্চে

চীনা নববর্ষ ২০২৬ উদযাপিত বিশ্বমঞ্চে ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২০:৪৮, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২০২৬ সালের চীনা নববর্ষ বা বসন্ত উৎসব সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে উদযাপিত হয়েছে। এই আয়োজন চীনা ঐতিহ্য, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতির এক অনন্য সমন্বয় হিসেবে বিশ্বজুড়ে সম্প্রচারিত হয়েছে।

চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) আয়োজিত এ গালা অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে ৮৫টি ভাষায় সম্প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ৩,৩০০টিরও বেশি গণমাধ্যমের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রকাশিত হয়েছে।

২০২৬ সালের চীনা চান্দ্র পঞ্জিকা অনুযায়ী এটি ‘অশ্ব বর্ষ’, যা চীনা সংস্কৃতিতে ঘোড়ার সঙ্গে আত্মউন্নয়ন, অধ্যবসায় ও অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এবারের গালার প্রতিপাদ্য ছিল ‘সুদক্ষ ঘোড়া ছুটে আসছে, তার গতি অপ্রতিরোধ্য’, যা মানুষকে স্বপ্ন পূরণের পথে অবিচল প্রচেষ্টার প্রেরণা দেয়।

১৯৮৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই গালা এখন বিশ্বজুড়ে চীনা পরিবারগুলোর পুনর্মিলনী উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ২০টি দেশে বসন্ত উৎসব সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃত, এবং বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ মানুষ বিভিন্নভাবে এই উৎসব উদযাপন করে।

এ বছর গালায় প্রযুক্তি এবং ঐতিহ্যের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ দেখানো হয়েছে। হাজার হাজার ঘোড়ার সম্মিলিত দৌড়ের দৃশ্য ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে মঞ্চে জীবন্ত করা হয়েছে।

‘রেশম পথ’-প্রেরণায় নির্মিত নৃত্য পরিবেশনায় প্রাচীন দেয়ালচিত্রের ঘোড়াকে বাস্তব জগতে তুলে আনা হয়েছে। দড়াবাজি ও অ্যাক্রোব্যাটিক পরিবেশনায়ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভিনব ব্যবহার দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। সমাপনী গানের আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন অনুষ্ঠানের আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে।

২০২৬ সালের গালা শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের প্রদর্শনীও। সিএমজি স্টুডিওতে চার ধরনের হিউম্যানয়েড রোবট মঞ্চে পারফর্ম করছে এবং নেপথ্যে সেবা দিচ্ছে।

গ্যালাক্সি জেনারেল, সংইয়ান ডাইনামিক্স, ইউশু টেকনোলজি ও ম্যাজিক অ্যাটম প্রতিষ্ঠানগুলোর রোবট মঞ্চে অংশগ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালে প্রথমবার রোবট পারফরম্যান্স শুরু হলেও এবার এর পরিধি এবং প্রযুক্তিগত বিকাশ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

চীনের উত্তরাঞ্চলের শহর হারবিনে বরফ ও তুষার দিয়ে নির্মিত মঞ্চেও অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বরফ শহরের মঞ্চে বড় প্রযুক্তিগত পর্দা না থাকলেও বরফের স্বচ্ছতা ও আলোছায়ার সমন্বয়ে দর্শকদের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় শিল্পী ও গায়কদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানের আবহ আরও উৎসবমুখর করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বুর্জ খলিফা ভবনের আলোক প্রদর্শনীর মাধ্যমে বসন্ত উৎসবের বৈশ্বিক প্রভাব প্রদর্শন করা হয়েছে। ভবনের গায়ে মাসকট, প্রাচীন চীনা অক্ষর এবং দ্রুতগামী ঘোড়ার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই আয়োজন চীনের সাহসিকতা, সংগ্রাম ও উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে এবং সাংস্কৃতিক সংযোগের বার্তা দিয়েছে।

চীনা নববর্ষ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা চীনা জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের অগ্রগতি উল্লেখ করেছেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চীনের আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। এছাড়া নেপাল, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের চীনা বসন্ত উৎসব গালা কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক বন্ধনের এক অনন্য মেলবন্ধন।

বেইজিংয়ের মঞ্চ থেকে হারবিনের বরফ নগরী এবং দুবাইয়ের আকাশচুম্বী ভবন পর্যন্ত এই উৎসবকে বৈশ্বিকভাবে উদযাপন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঐতিহ্য ও প্রযুক্তি যখন একত্রিত হয় এবং সংস্কৃতি বিশ্বমঞ্চে পৌঁছায়, তখন একটি উৎসব কেবল এক দেশের নয়, পুরো মানবজাতির সম্পদে পরিণত হয়।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement