বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।
তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ভারতের উচিত তাকে বাংলাদেশের হাতে হস্তান্তর করা। তবে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সম্পর্ক স্থাপনে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবেনা, বরং এই সম্পর্ক আরও ভালোভাবে গড়ে তোলা সম্ভব।
ফখরুল উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের জটিলতা থাকা সত্ত্বেও সহযোগিতা বন্ধ হওয়া উচিত নয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমেরিকা ও চীনের সম্পর্কেও বিভিন্ন জটিলতা থাকলেও তারা একে অপরের সঙ্গে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
তিনি ইতিহাসের উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ভারতে অবস্থান করলেও বিএনপি নেতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তখন ভারত সফর করেছিলেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই ঢাকায় এসেছিলেন। ফখরুল বলেন, দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয় যেমন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি, ফারাক্কা পানি ইস্যু ও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
মির্জা ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের সহিংস অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় পর্যায়ে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বিএনপি, এবং নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, ব্যবসা ও ডিজিটাল অবকাঠামোসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের ঋণের বোঝা কমানো, মেগা প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন এবং বাংলাদেশের স্বার্থে কার্যকর প্রকল্পগুলো বজায় রাখাও নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে থাকবে। তিনি বলছেন, সমঝোতা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন এবং দেশের স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণ করা হবে।
































