১৪ এপ্রিল থেকে চালু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’
Published : ১২:৩৩, ৫ মার্চ ২০২৬
পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই কর্মসূচির সার্বিক তদারকির জন্য অর্থ সচিবকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি সচিব পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
প্রেসসচিব বলেন, কৃষক কার্ড শুধু একটি সাধারণ পরিচয়পত্র নয়; এটি দেশের কৃষকদের ন্যায্য অধিকার, সম্মান এবং নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সরকারি সেবা ও সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষক কার্ডের আওতায় কৃষকরা নানাবিধ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প খরচে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, সাশ্রয়ী মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ গ্রহণের ব্যবস্থা এবং কৃষি বীমা সুবিধা। এছাড়াও কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া এবং ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হবে।
এই কর্মসূচির সুবিধা কেবল শস্য উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আওতায় মৎস্য চাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং দুগ্ধ খামারিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
সালেহ শিবলী আরও জানান, প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন শ্রেণির কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর দেশের ৮টি বিভাগের অধীনে ৯টি উপজেলার ৯টি ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করা হবে।
যেসব উপজেলা এই প্রাথমিক কার্যক্রমের জন্য নির্বাচিত হয়েছে সেগুলো হলো— টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের গড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি খরিফ-১ এবং খরিফ-২ মৌসুমে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
প্রেসসচিব আরও বলেন, প্রাক-পাইলট এবং পাইলট পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের সব উপজেলায় এই কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
বিডি/এএন






























