রাত পোহালেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু
Published : ২৩:৫৪, ৯ মার্চ ২০২৬
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক বা পাইলট কার্যক্রম মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন।
রাজধানীর মহাখালী টিএন্ডটি মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কড়াইল এলাকার নারীদের হাতে তিনি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবেন। একই দিন সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর মোবাইল ফোনে প্রথম মাসের নগদ সহায়তাও পাঠানো হবে।
এই কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় মন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকবেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সুনামগঞ্জে উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি সুবিধাভোগী পরিবার প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা পাবে। এ বিষয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কয়েক দিন আগে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বগুড়ায় হবে। তবে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রাজধানীর কড়াইল এলাকায় কর্মসূচি উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যেসব এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে তার মধ্যে রয়েছে—রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি (ওয়ার্ড-১৪) এবং বাগানবাড়ি বস্তি এলাকা।
এছাড়া রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাসন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও এই পাইলট কর্মসূচি চালু করা হবে।
সরকারি নীতিপত্র অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। ব্রাজিলে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্য কমানোর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। একই ধরনের পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি ভারত ও ইন্দোনেশিয়াতেও চালু রয়েছে এবং সেখানেও ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
২৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব পালন করবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে নারী ও শিশু, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ ও পরিকল্পনাসহ মোট ১৪টি মন্ত্রণালয় সরাসরি এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হলেও ধাপে ধাপে দেশের সব পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই কর্মসূচিতে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আগামী চার মাসের মধ্যে পাইলট কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উপকারভোগী নির্বাচন এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ স্তরের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা বা শহর কমিটি, ইউনিয়ন কমিটি, পৌর কমিটি (শহর) এবং ওয়ার্ড কমিটি থাকবে। এসব কমিটির ওপর থাকবে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি। অর্থমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সদস্য সচিব থাকবেন।
এছাড়া জাতীয় কারিগরি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বা ডেটা ম্যানেজমেন্ট কমিটিও গঠন করা হবে। এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের মা বা নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। কার্ডধারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং কার্ডে নাগরিকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডকে সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ডে রূপান্তর করা হবে।
বিডি/এএন



























