প্রথম ধাপে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যতজন পাচ্ছেন

প্রথম ধাপে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যতজন পাচ্ছেন ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:৫৬, ৯ মার্চ ২০২৬

পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়নের মোট ১৫টি ওয়ার্ডে চালু করা হচ্ছে নতুন সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি।

এই কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৩৭ হাজার ৫৬৪ জন নারীকে পরিবারপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীতে টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে, কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায়, প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

মন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন জোরদার করা এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে কার্ড প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি কার্ডের আওতায় একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচজনের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, যেসব নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন, তারা যদি আগে থেকে অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে সেই বিদ্যমান সুবিধা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাদের নিজ নিজ ভাতা বা সহায়তা গ্রহণ চালিয়ে যেতে পারবেন।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অধীনে নির্বাচিত উপকারভোগীরা পাইলট পর্যায়ে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। পরবর্তীতে একই মূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে জানান মন্ত্রী।

কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান এবং গৃহস্থালির ব্যবহৃত সামগ্রী যেমন টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক তথ্যও নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরে এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়।

পাইলট পর্যায়ে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরপর সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত—এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাই করে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া যায়। পরে একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা গ্রহণ করছেন কি না, সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্টের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারী পরিবারপ্রধানকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন বা কন্টাক্টলেস চিপযুক্ত এই কার্ডে কিউআর কোড এবং এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ এবং দীর্ঘস্থায়ী।

মন্ত্রী আরও জানান, পাইলটিং পর্যায়ে যদি কোনো পরিবারের সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে বেতন, ভাতা, অনুদান বা পেনশন পেয়ে থাকেন, অথবা নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকেন, তাহলে সেই পরিবার ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবে না।

এছাড়াও কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা এসি থাকলে, কিংবা পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে সেই পরিবারও ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে না বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অর্থ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ভাতা জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী তার মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, তথ্য সংগ্রহের সময়ই উপকারভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য নেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো বিলম্ব বা মধ্যস্থতা ছাড়াই উপকারভোগীরা ঘরে বসেই সরাসরি সরকারের কাছ থেকে ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement