বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২০:১৭, ৯ মার্চ ২০২৬

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রির অর্থ দেশে ফেরত নেওয়ার নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ প্রত্যাবাসনের জন্য আর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগবে না।

অর্থাৎ, ব্যাংকগুলো নিজস্ব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে। এর আগে এই সীমা ছিল ১০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। এই পদক্ষেপ বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, বিদেশি বিনিয়োগকারীর শেয়ার হস্তান্তরের অর্থ দেশে ফেরত আনার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। ২০২০ সালে ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই সীমা ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে স্বাধীন মূল্য নির্ধারকের মাধ্যমে নির্ধারিত ন্যায্যমূল্য থাকলে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে নিজস্বভাবে অনুমোদন দিতে পারবে।

এছাড়াও, সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে নির্ধারিত নেট অ্যাসেট ভ্যালু অতিক্রম না করলে লেনদেনের পরিমাণ যতই হোক, ব্যাংকগুলোই অর্থ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।

ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও সহজ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন আর প্রয়োজন হবে না। প্রজ্ঞাপনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, ব্যাংকগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করতে হবে।

ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে কমিটি গঠন করবেন ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) এবং সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। এই কমিটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন যাচাই ও অর্থ প্রত্যাবাসনের অনুমোদন দেবে, এবং এতে পেশাগত সনদধারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে গ্রাহকদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন কার্যক্রমের জন্য যুক্তিসংগত মাশুল নেয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। তিনটি গ্রহণযোগ্য মূল্যায়ন পদ্ধতির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে—নেট অ্যাসেট ভ্যালু, মার্কেট অ্যাপ্রোচ এবং ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো পদ্ধতি, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

লেনদেনের সময় কমাতে ও স্বচ্ছতা বাড়াতে কিছু প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনও এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী সমঝোতা স্মারকের তারিখ থেকে ছয় মাসের বেশি পুরোনো হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সেই ক্ষেত্রে কোম্পানিকে মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নতুন নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।

কোনো অসঙ্গতি না থাকলে ব্যাংকগুলো পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হলে তিন কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন পাঠাতে হবে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের তারিখ অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এছাড়াও, ব্যাংক পর্যায়ে সম্পন্ন সব লেনদেনের তথ্য ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement