জামায়াতের ‘ঐক্য সরকার’ প্রস্তাব নাকচ তারেক রহমানের

জামায়াতের ‘ঐক্য সরকার’ প্রস্তাব নাকচ তারেক রহমানের ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৪৪, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে সম্মতি দিচ্ছেন না বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসনে জয়ী হবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থাটিকে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে ঐক্য সরকার কীভাবে গঠন করা সম্ভব—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমার রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে কীভাবে আমি ঐক্য সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী কতটি আসনে জয়ী হবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তারা যদি সংসদে বিরোধী দলে অবস্থান নেয়, তাহলে তিনি তাদের কাছ থেকে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

বিএনপি চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস এবারের নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হবে। যদিও জাতীয় সংসদে মোট ৩০০টি আসন থাকলেও বিএনপি সরাসরি প্রার্থী দিয়েছে ২৯২টি আসনে। বাকি আসনগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জোটের শরিক দলগুলোর জন্য।

তবে নিজ মুখে কোনো নির্দিষ্ট আসনসংখ্যার কথা বলেননি তারেক রহমান। রয়টার্সকে তিনি শুধু জানিয়েছেন, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, আমরা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসনে জয়ী হবো।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে নির্বাচন শেষে জামায়াতে ইসলামী বিএনপিকে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের সময় দেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়ে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে সরকার গঠনের মতো আসন পেলে সবাইকে নিয়ে সরকার পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দলটি।

সাক্ষাৎকারে রয়টার্স তারেক রহমানকে প্রশ্ন করে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারত থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবে কি না।

জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারে গেলে তাদের মূল লক্ষ্য হবে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। এজন্য দেশে বিনিয়োগ আনার ওপর গুরুত্ব দেবেন তারা, যাতে নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং মানুষ ভালো জীবনযাপন করতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে যেসব দেশের প্রস্তাব জনগণ ও দেশের জন্য উপযোগী হবে, তাদের সবার সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা হবে—কোনো একটি দেশের প্রতি আলাদা ঝোঁক নয়।

সরকার গঠন করতে পারলে শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে এবং মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার আছে।

এ ছাড়া তিনি জানান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশেই অবস্থান করতে পারবেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement