প্রেস সচিব শফিকুল আলম: জাবেরকে গুলি করা হয়নি

প্রেস সচিব শফিকুল আলম: জাবেরকে গুলি করা হয়নি ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:১৬, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—এ ধরনের খবরকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, এই ধরনের তথ্য মূলত অপসাংবাদিকতা এবং ক্লিকবেইট সাংবাদিকতার ফলাফল। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য প্রকাশ করেন।

পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, জাবেরকে যখন হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল, তখন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাল ব্যানারের সঙ্গে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটি ব্যবহার করে দাবি করা হয় যে, জাবেরকে গুলি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে গুলিবিদ্ধ হওয়ার অর্থ দাঁড়ায়—তাজা গুলির আঘাত। এই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ বড় গণমাধ্যমগুলো ফেসবুক পোস্টটিকে সত্য ধরে নেয়। তারা এমন ছবি এবং শিরোনাম প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয় যে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আবদুল্লাহ আল জাবেরকে গুলি করা হয়েছে। এই ভুল তথ্য দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

শফিকুল আলম আরও উল্লেখ করেন, আমরা পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্টভাবে জানায়, ওই সময় কোনো গুলি চালানো হয়নি। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনার কারণে পুলিশ এখন প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করে যে, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারীকেই গুলি করা হয়নি।

প্রেস সচিব বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করা একটি গুরুদায়িত্বপূর্ণ কাজ। একটিমাত্র ভুলের কারণে সহিংসতা, দাঙ্গা বা অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, গতকালকের সংঘর্ষের ঘটনা সঠিকভাবে সংবাদমাধ্যমগুলো তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদে পড়ে যায়নি, বরং বিষয়টি আরও বাড়িয়ে প্রকাশ করেছে। এই সব ভুল তথ্য এবং অসম্পূর্ণ প্রতিবেদন বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। পরিস্থিতি শান্ত হয় কেবল অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে প্রকাশিত সত্য বিবৃতির পরে।

শফিকুল আলম আরও বলেন, এর আগে এমন ঘটনা আমরা দেখেছি। উদাহরণ হিসেবে তিনি মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানের বিধ্বস্ত হওয়ার পর তৈরি হওয়া সহিংসতা উল্লেখ করেন। স্পর্শকাতর এবং বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের কারণে মিলে ঘটেছিল মবের সৃষ্টি, যেখানে কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা স্কুলে ৯ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ ছিলেন। সচিবালয়েও অনুরূপ মব এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।

শেষে শফিকুল আলম মন্তব্য করেন, সাংবাদিকরা সরকার, রাজনীতিবিদ এবং ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের উপদেশ দিতে দেরি করেন না, কিন্তু নিজেদের দায়িত্ব ও সাংবাদিকতায় ন্যূনতম নির্ভুলতা বজায় রাখার বিষয়ে অনেকেই চোখ ফিরিয়ে নেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement