জিডি করতে থানায় গেলে ঢাবি ছাত্রকে পেটায় পুলিশ, আইফোনও ভেঙে যায়
Published : ১৪:১৯, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে পুলিশের পিটুনির শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ থানার গেটের কাছে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের মারধরের সময় তার সঙ্গে থাকা আইফোনও ভেঙে যায়।
আহত শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক। তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি শাহবাগ থানায় জিডি করবেন।
জানা গেছে, পুলিশের পিটুনির পর সাব্বির কোনোভাবে দৌড়ে শাহবাগের একটি ফুলের দোকানে আশ্রয় নেন। প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করার পর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হলে পৌঁছে দেয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমদ।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, তিনি তার বিভাগের এক আপুকে সঙ্গে নিয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রথমে কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলেন। প্রায় ৩০ মিনিটের অপেক্ষার পর থানার সার্ভার সমস্যার কারণে জিডি করতে দেরি হবে বলে জানানো হয়। পরে বন্ধুকে খুঁজতে থানার সামনে গেলে এক পুলিশ সদস্য তাকে জিজ্ঞেস করেন কেন এসেছেন।
জিডি করতে এসেছি বলে জানানোর পর তাকে থানার ভিতরে যেতে বলা হয়। তিনি বলেন, ভেতরে প্রবেশের সময়, থানার গেটের সামনে কিছুক্ষণ পরই কয়েকজন পুলিশ কোনো প্রশ্ন না করেই লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারতে শুরু করেন। এতে তার হাত ও পিঠে আঘাত লাগে। বিশেষ করে ডান হাতের কবজিতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন, যা সঙ্গে সঙ্গে এক্স-রে করতে হয়েছে।
সাব্বির আরও জানান, ‘পুলিশ আমাকে মারার সময় আমার পকেটে থাকা আইফোনটি লাঠির আঘাতে ভেঙে যায়। এটি আমার অনেক কষ্টের টাকা দিয়ে এবং ঋণ নিয়ে কেনা ফোন। টাকাও এখনও পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি। আমার সামর্থ্যের বাইরে এমন ক্ষতি, তাই আমি ক্ষতিপূরণ চাইব—কিন্তু কার কাছে, বিচার চাইব কার কাছে?’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ থানা প্রাঙ্গনে আমাকে এভাবে অত্যাচার করেছে, নির্যাতন করেছে। নাগরিক অধিকার ভোগ করার জন্য থানায় গিয়েই আহত হয়ে ফিরেছি। থানায় গেলে হয়তো আবারও হামলার শিকার হব। এ বিষয়ে এখনো লিখিত অভিযোগ দিইনি। তবে আজ বিকেলে প্রক্টর অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গতকাল তাকে জহুরুল হক হল সংসদের সহায়তায় উদ্ধার করে মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সাব্বির লিখিত অভিযোগ দিলে আমি বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও একাধিকবার ফোন করা সত্ত্বেও তিনি রিসিভ করেননি।
বিডি/এএন

































