কারাগার থেকে ভোট দিলেন সালমান-পলকরা, প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ বন্দিদের
Published : ১৩:২৩, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কারাবন্দিরা।
এই ব্যতিক্রমী ও ঐতিহাসিক ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন কারাগারে থাকা একাধিক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশত ভিআইপি বন্দি। তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং জুনাইদ আহমেদ পলকসহ আরও অনেকে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৬৭ জন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোট নিবন্ধনের শেষ দিনে অবশিষ্ট ১ হাজার ৯২৩ জন বন্দিও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট দিতে না পারলে তাদের ভোটাধিকার বাতিল হয়ে যাবে বলে কারা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এই ঐতিহাসিক ভোট কার্যক্রমে কারাগারে থাকা সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশত ভিআইপি বন্দি অংশ নিচ্ছেন।
বিশেষ করে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ৩৯ জন হাই-প্রোফাইল বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময়কার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু এবং জুনাইদ আহমেদ পলক।
নিবন্ধিত ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে ২২ জন রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও ১১ জন সাবেক সচিব এবং পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। ঢাকা বিভাগকে দুটি সাংগঠনিক অংশে ভাগ করে এই ভোট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগ-১-এর আওতায় ১ হাজার ৪৭৬ জন এবং ঢাকা বিভাগ-২-এর আওতায় ১ হাজার ১৮৩ জন বন্দি নিবন্ধিত হয়েছেন।
ভোট প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, প্রত্যেক নিবন্ধিত বন্দিকে একটি প্যাকেটের মাধ্যমে তিনটি করে খাম সরবরাহ করা হচ্ছে। ওই প্যাকেটে ব্যালট পেপারের পাশাপাশি গণভোটের জন্য ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ লেখা আলাদা ব্যালট পেপারও অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
বন্দিরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট প্রদান করে খামগুলো আঠা দিয়ে বন্ধ করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিচ্ছেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ ডাক বিভাগের এক্সপ্রেস ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব খাম নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন পরে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটের সঙ্গে এসব পোস্টাল ব্যালট যুক্ত করে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন এবং শুক্রবার ৪২০ জন বন্দি ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন সপ্তাহব্যাপী এই অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সে সময় দেশের ৭৫টি কারাগারে মোট ৮৬ হাজার বন্দি থাকলেও তাদের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৯৯০ জন ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় ৩৮০টি আবেদন বাতিল করা হয় এবং বাকিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেননি।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিডি/এএন
































