মহাকাশ থেকে তাকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠের কিছু কিছু স্থান এতটাই স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে যে সেগুলো মহাকাশচারীদের দৃষ্টি কাড়ে অনায়াসেই।
এসব বিস্ময়কর দৃশ্য বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে আছে—যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের মতো দেশেও। বিশেষ করে মানুষের তৈরি কিছু বিশাল স্থাপনা, কৃত্রিম দ্বীপ, বৃহৎ বাঁধ ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক মহাকাশ থেকেও সহজে শনাক্ত করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায়, পৃথিবী ও মহাকাশের সীমারেখা হিসেবে পরিচিত ‘কারম্যান লাইন’ ভূপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১০০ কিলোমিটার ওপরে অবস্থিত। এই উচ্চতা থেকেই পৃথিবীর অনেক প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট স্থাপনা বেশ পরিষ্কারভাবে দেখা সম্ভব হয়।
এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি স্থান বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়—
প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের বিংহাম কপার মাইন। সল্ট লেক সিটির অদূরে অবস্থিত এই খনিটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবসৃষ্ট তামার খনি হিসেবে পরিচিত। এর বিশাল আকারের কারণে মহাকাশ থেকেও এটি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
দ্বিতীয়ত, চীনের থ্রি গর্জেস ড্যাম। ইয়াংজি নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধটি বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এর ব্যাপক বিস্তৃতি ও কাঠামোগত বিশালতা মহাকাশ থেকে সহজেই শনাক্তযোগ্য।
তৃতীয়ত, দুবাইয়ের পাম জুমেইরা। খেজুর গাছের আদলে নির্মিত এই কৃত্রিম দ্বীপটি বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্টের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এর অনন্য নকশা মহাকাশ থেকেও পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।
চতুর্থত, বিশ্বের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। বিশেষ করে রাতের বেলায় আলোয় ঝলমলে এসব সড়ক মহাকাশ থেকে আলাদা করে নজরে আসে।
পঞ্চমত, চীনের মহাপ্রাচীর। বহুল আলোচিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনার কিছু অংশ মহাকাশ থেকে দৃশ্যমান, যা মানব সভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশ থেকে পৃথিবীর এসব দৃশ্য দেখলে মানব সভ্যতার অগ্রগতি, প্রকৌশল দক্ষতা ও স্থাপত্য শিল্পের উন্নয়ন স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এমন অভিজ্ঞতা যে কোনো মানুষের জীবনে নিঃসন্দেহে এক স্মরণীয় ও ব্যতিক্রমধর্মী স্মৃতি হয়ে থাকে।



































