ঢাবির ঘ ইউনিটে প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর আত্মহত্যা

ঢাবির ঘ ইউনিটে প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর আত্মহত্যা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:০৭, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি—এই তিনটি পরীক্ষাতেই অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে বৃত্তি অর্জন করেছিলেন তিনি।

কিন্তু কলেজজীবনে পা দেওয়ার পর মানসিক অসুস্থতাসহ নানা জটিলতায় টানা প্রায় পাঁচ বছর পড়ালেখা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সেই বিরতির পর আবারও পড়াশোনায় ফিরে এসে সবাইকে চমকে দেন অনন্য গাঙ্গুলী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি হন সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থী। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।

এটি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার শিক্ষক দম্পতি প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী ও রাধারানী ভট্টাচার্য্যের বড় ছেলে অনন্য গাঙ্গুলীর জীবনের গল্প। একসময় তার অদম্য মানসিক শক্তি ও মেধার অনন্য সাফল্যের গল্প দেশজুড়ে গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল।

তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে ঝিনাইদহ সরকারি কে এম এইচ কলেজের শিক্ষার্থী অনন্য ঘ ইউনিটে প্রথম স্থান অর্জন করেন। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ছিল ১০৩ দশমিক ৯৫, যার মধ্যে মূল পরীক্ষায় তিনি পেয়েছিলেন ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৯৫।

কিন্তু সেই উজ্জ্বল গল্পের শেষটা হলো গভীর বেদনার। অনন্য গাঙ্গুলীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাজারপাড়া এলাকার নিজ বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

অনন্য গাঙ্গুলী কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাধারানী ভট্টাচার্য্যের বড় সন্তান। শিক্ষক পরিবারটির দুই সন্তান—এক ছেলে ও এক মেয়ে। তার ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গুলীও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অনন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, সেই মানসিক যন্ত্রণাই তাকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অনন্যর বাবা জানান, ছেলে অত্যন্ত মেধাবী হলেও দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement