১৭ বছরের কিশোরী জুলাইযোদ্ধা তাহমিনা জান্নাত সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর ঘটনাকে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।
একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, এটি একটি শিশুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম ও অনভিপ্রেত অপব্যবহারের উদাহরণ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে কালিয়াকৈর থানার পক্ষ থেকে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। মামলার এজাহারে সুরভীর বয়স ২০ বছর এবং পুলিশের প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর)-এ ২১ বছর উল্লেখ করা হয়। তবে সুরভীর জন্মসনদ অনুযায়ী সোমবার তার বয়স দাঁড়ায় ১৭ বছর ১ মাস ৭ দিন।
আদালতের এই আদেশের প্রতিক্রিয়ায় জাহিদ আহসান সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ২০১৮ সালে নিবন্ধিত জন্মসনদ অনুসারে সুরভীর জন্ম ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর। সে হিসাবে তিনি এখনও শিশু। শিশু আইন, ২০১৩ এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী এটি একটি প্রতিষ্ঠিত আইনগত সত্য। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে সুরভীর বিরুদ্ধে যে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিশু আইন, ২০১৩-এর ৩ ধারা অনুযায়ী শিশুর ক্ষেত্রে অন্যান্য সব আইনের ওপর শিশু আইনের প্রাধান্য কার্যকর থাকার কথা। কিন্তু এই ঘটনায় রাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে সেই বিধান উপেক্ষা করেছে, যা সরাসরি আইনের শাসন ও সংবিধানের নীতির পরিপন্থী। জন্মসনদ ও আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী শিশু হওয়া সত্ত্বেও সুরভীর সঙ্গে একজন প্রাপ্তবয়স্ক আসামির মতো আচরণ করা হয়েছে।
তাকে শিশু আদালতের পরিবর্তে জেলা ও দায়রা আদালতে হাজির করা হয়েছে, যা শিশু আইনের ১৬ ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন। উপরন্তু, শিশু আইনে রিমান্ডের কোনো বিধান না থাকা সত্ত্বেও তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মারাত্মক অপব্যবহার।
জাহিদ আহসান তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, শিশু আইন, ২০১৩-এর ৫২ ধারা অনুযায়ী শিশুর ক্ষেত্রে জামিনই নিয়ম, আটক ব্যতিক্রম। অথচ সুরভীর জামিন নামঞ্জুর করে তাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে, যা শিশু আইনের মৌলিক দর্শন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সম্পূর্ণ বিরোধী।
সবশেষে তিনি অবিলম্বে সুরভীর বিরুদ্ধে জারি করা সব বেআইনি ও এখতিয়ারবহির্ভূত আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, কোনো রাষ্ট্র যদি নিজের শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তা কেবল একজন শিশুর নয়, বরং সমগ্র জাতির ভবিষ্যতের জন্যই অশনিসংকেত।



































