গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন: বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদমুক্ত ঋণ পেলেন ১৬৮ নারী
Published : ১৮:০৯, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কোনো ধরনের সুদ, সার্ভিস চার্জ ও জামানত ছাড়াই ১৬৮ জন সুবিধাবঞ্চিত নারীর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের এই মানবিক উদ্যোগ গত দুই দশক ধরে ভূমিকা রেখে আসছে।
উপজেলার আকানগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ফাউন্ডেশনের ৮৫তম ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই।
মো. চাঁনমিয়া সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক নারী নিজেদের স্বপ্ন পূরণে বাধার মুখে পড়লেও সুদমুক্ত ঋণ সহায়তা তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাছিমুল হাই বলেন, “চড়া সুদের ফাঁদ থেকে মুক্তি পেয়ে অসচ্ছল নারীরা আজ নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। ঋণগ্রহীতাদের প্রতি আমার অনুরোধ, এই টাকা কোনো অবৈধ কাজে না লাগিয়ে সৎ পথে বৈধ আয় বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করুন।”
বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, “সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপ একটি অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শুধু ঋণ বিতরণ নয়, বরং শিক্ষাবৃত্তি, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রশিক্ষণ, সেলাই মেশিন বিতরণ এবং নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও গ্রুপটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।”
ঋণ পেয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান উপকারভোগী নারীরা। নবীনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রামের শিল্পী আক্তার জানান, ঋণের অর্থ দিয়ে তিনি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে চান। বাড়াইল গ্রামের মর্জিনা আক্তার এই অর্থ দিয়ে স্বামীর কৃষিকাজে সহায়তা করার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে, আকানগর গ্রামের গীতা রানী আগেরবারের মতো এবারও একটি গরু কিনে পরিবারের আয় বাড়াতে চান।
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে চারটি ধাপে ১৬৮ জন উপকারভোগীর মধ্যে মোট ৩০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৫০ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় ধাপে ২২ জনকে ১৫ হাজার টাকা করে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, তৃতীয় ধাপে ২১ জনকে ২০ হাজার টাকা করে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ ধাপে ৭৫ জনকে ২০ হাজার টাকা করে ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
সুদ, সার্ভিস চার্জ ও জামানতবিহীন এই ঋণ কার্যক্রম গ্রামীণ নারীদের আয়বর্ধক উদ্যোগে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

































