ইসরায়েলের নির্বাচনে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট, সরকার গঠনে নেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা

ইসরায়েলের নির্বাচনে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট, সরকার গঠনে নেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১৭:২২, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের নির্বাচনে ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছে উভয় জোট।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি (সিইসি) এ তথ্য জানায়। এদিকে, প্রধানত আরব ভোটারদের সমর্থন পাওয়া দুটি দল সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে দল দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মঙ্গলবারের নির্বাচনে আরব ভোটাররা রেকর্ডসংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের ক্ষমতা থেকে সরানোর আশায় তাঁরা ভোট দেন। এর আগে আরব দলগুলোর সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা ছিল ১৫টি।

বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ফলাফলের চিত্র নির্বাচনের আগে প্রকাশিত অধিকাংশ জনমত জরিপের সঙ্গে মেলেনি। জরিপগুলোতে বিভিন্ন ব্যবধানে আইজেনকটের জোটকে নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তবে কোনো জরিপেই কোনো জোটের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়নি।

মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর প্রকাশ করা বুথফেরত জরিপে আইজেনকটের জোটকে নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে দুই থেকে তিনটি আসনে এগিয়ে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু রাতভর এবং বুধবার বিকেল পর্যন্ত ভোট গণনা এগোতে থাকলে দেখা যায়, বুথফেরত জরিপের সঙ্গে প্রকৃত ফলের মিল নেই। গণনায় নেতানিয়াহুর দল ও তাঁর জোট আইজেনকটের জোটকে ছাড়িয়ে যায়।

বুধবার রাত ৯টার পর হালনাগাদ তথ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানায়, মোট ভোটের ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ গণনা করা হয়েছে। এতে প্রায় সব সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফল এখনো চূড়ান্ত না হলেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে নির্বাচন কমিটি জানায়, বাকি সাধারণ ব্যালট গণনায় অতিরিক্ত তদারকি প্রয়োজন হওয়ায় ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। এ ছাড়া তথাকথিত ডাবল-এনভেলপ ভোটের প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ব্যালট এখনো গণনা করা হয়নি। বৃহস্পতিবার রাত ১টায় এসব ব্যালট গণনা শুরু হওয়ার কথা এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে তা শেষ হতে পারে।

কমিটি জানিয়েছে, ডাবল-এনভেলপ ব্যালটের সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব। কর্মকর্তারা এখনো এসব ব্যালট গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের কাজ করছেন। সেনাসদস্য, বন্দি, বিদেশে দায়িত্ব পালনরত কূটনীতিক এবং নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে যেতে অক্ষম অন্য ব্যক্তিরা মূলত এসব ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এগুলো আলাদাভাবে গণনা করা হয়। ভোটাররা অন্য কোনো কেন্দ্রে আগেই ভোট দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করার জন্য এসব ব্যালটের গণনা শুরু করতে সময় লাগছে।

এ কারণে বৃহস্পতিবার বিকেলে পূর্ণাঙ্গ ভোট গণনার ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হবে ৪ নভেম্বর।

পার্লামেন্টের প্রতিটি আসনের বিপরীতে প্রায় ৪০ হাজার ভোটের হিসাব ধরা হচ্ছে। সে হিসাবে অনুপস্থিত ভোটারদের ব্যালট চূড়ান্ত রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব ভোটের ফল সামগ্রিক গণনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement