বরগুনায় গৃহবধূকে পিটিয়ে ও মুখ থেঁতলে হত্যার অভিযোগ
Published : ১৩:৫৪, ৭ মার্চ ২০২৬
বরগুনায় নিজ ঘরের ভেতর লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করে মুখমণ্ডল থেঁতলে আলম তাজ (৪৪) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় ওই গৃহবধূ বাড়িতে একাই ছিলেন বলে জানিয়েছে স্বজনরা।
ফলে কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না তারা। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে একটি লোহার তৈরি শাবল জব্দ করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ১০ নম্বর নলটোনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আগাপদ্মা দিল মাহমুদ এলাকায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আলম তাজ ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল হাওলাদারের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় আলম তাজ নিজ বাড়িতে একা অবস্থান করছিলেন। সেই সুযোগে অজ্ঞাত কেউ বা একাধিক ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে লোহার শাবল দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। বিশেষ করে মাথায় একের পর এক আঘাত করে তার মুখমণ্ডল থেঁতলে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনদের খবর দেন এবং পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নাঈম হোসেন তানভীর নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, খবর পেয়ে ইফতারের পর তিনি ঘটনাস্থলে এসে দেখেন মরদেহ পড়ে আছে। তার জানামতে নিহত পরিবারের সঙ্গে এলাকায় কারো কোনো বিরোধ ছিল না।
এমনকি গৃহবধূর সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকারও অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। নিহতের ছেলেরা বরগুনা শহরে ব্যবসা করেন এবং তার স্বামীরও আর্থিক অবস্থা ভালো। তবে এলাকার বাইরে কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
চম্পা নামে নিহতের এক স্বজন জানান, প্রথমে তারা শুনেছিলেন ওই বাড়িতে আগুন লেগেছে। পরে ডাকাডাকি শুনে আশপাশের মানুষ জড়ো হয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখেন ঘরের বারান্দায় আলম তাজের মরদেহ পড়ে আছে। তার মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
নিহতের মা মোসম্মৎ ছায়াতন বেগম বলেন, তিনি মেয়ের বাড়িতে থাকেন না। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই। তাকে প্রথমে জানানো হয়েছিল জামাই অসুস্থ। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন তার মেয়েকে কেউ নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুজ্জামান মাহফুজ বলেন, এটি অত্যন্ত নির্মম একটি হত্যাকাণ্ড। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাহ্উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তিনি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনা শেষে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
ঘটনাস্থল থেকে ধারালো নয় এমন একটি লোহার অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই শাবল দিয়েই উপর্যুপরি আঘাত করে আলম তাজের মুখমণ্ডল থেঁতলে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
বিডি/এএন































