বিশ্ববাজারে সোনার দাম আরও চড়া

বিশ্ববাজারে সোনার দাম আরও চড়া ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:১৭, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি পড়ছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে। এর ধারাবাহিকতায় বৈশ্বিক বাজারে সোনার দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে।

মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের মূল্য প্রায় ৫ হাজার ১৮৭ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। আগের দিন বুধবার এই দাম ছিল ৫ হাজার ১৬৫ ডলার। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতি আউন্সে প্রায় ২২ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই স্বর্ণবাজার অস্বাভাবিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। গত জানুয়ারির শেষ দিকে সোনা ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে, যখন প্রতি আউন্সের দাম ৫ হাজার ৫৯৪ ডলারে পৌঁছায়। যদিও বর্তমানে সেই সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে দাম কিছুটা কমেছে, তবুও গত বছরের তুলনায় এখনকার মূল্য প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুই মাসেই সোনার দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে এর শক্তিশালী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দামের এই লাগাতার উত্থানের পেছনে প্রধানত তিনটি বড় কারণ কাজ করছে।

প্রথম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। বিশেষ করে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে।

অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যগতভাবে সোনা নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এর চাহিদা দ্রুত বেড়েছে।

দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বাণিজ্য নীতি বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক বিনিয়োগকারী মার্কিন ডলারের পরিবর্তে সোনা মজুদে আগ্রহী হচ্ছেন।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার প্রবণতা বৃদ্ধি। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অনেক দেশ তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ডলারের অংশ কমিয়ে সোনা সংগ্রহকে তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে। চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সেই অনুপাতে না বাড়ায় বাজারদরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ছে।

ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসও ইঙ্গিত দিচ্ছে, সোনার এই ঊর্ধ্বগতি সহজে থামছে না। বৈশ্বিক বিশ্লেষক সংস্থা ইউবিএস (UBS) এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৪০০ ডলার থেকে শুরু করে ৬ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন আরও বেশি করে স্বর্ণবাজারের দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement