রাজধানীর হাজারীবাগে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন বিন্তিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন সিয়ামকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাঠালবাগান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আটককালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি ও রক্তমাখা একটি পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। ফুটেজের সূত্র ধরে কাঠালবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিয়ামকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ভিডিওতে তাকে হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই তদন্তকারী দল আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। ফুটেজে দেখা যায়, ভিকটিম শারমিন বিন্তির সঙ্গে সিয়ামকে একসঙ্গে হাঁটতে ও কথা বলতে। এক পর্যায়ে কথোপকথনের সময় হঠাৎ করেই সিয়াম পেছন দিক থেকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করে।
তিনি আরও জানান, ছুরিকাঘাতের পর অভিযুক্ত কিছু সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। আশপাশে লোকজন থাকলেও পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পরে সে মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, সিয়াম ও নিহত শিক্ষার্থী একই স্কুলে পড়াশোনা করতো। সিয়ামের দাবি অনুযায়ী, তাদের মধ্যে চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সম্প্রতি তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। তার ধারণা ছিল, মেয়েটি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। সেই সন্দেহ ও ক্ষোভ থেকেই তাকে ডেকে এনে আক্রমণ করা হয় বলে সে জানিয়েছে।
নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মেয়ে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তার পিঠের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


































