রিমান্ডে কান্নাকাটি করছেন, ভেঙে পড়েছেন পলক
Published : ১৯:১৩, ১৯ আগস্ট ২০২৪
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পাঁচজন ভিআইপি আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এর মধ্যে বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু এবং সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
রিমান্ডে নেওয়ার পর থেকে সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ভিআইপি আসামিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর থেকেই ভেঙে পড়েন পলক। জিজ্ঞাসাবাদে তেমন কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। প্রশ্ন করলেই মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কানাকাটি করেন। বেশিরভাগ সময় কান্নাকাটি করছেন। এমনকি নিজের মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজের দায়-দায়িত্ব নিতেও অস্বীকার করে যাচ্ছেন।
পলকের ভাষ্যমতে, ইন্টারনেট বন্ধ করার বিষয়ে তার একক কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সায় ছিল। একইসঙ্গে এনটিএমসির মহাপরিচালক সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নির্দেশনা মেনে তিনি ইন্টারনেট শাটডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান।
জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, আওয়ামী সরকারের পতন এতো দ্রুত হতে পারে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। চাইলে তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারতেন। কিন্তু শেখ হাসিনার সঙ্গে ‘বেইমানি করা হবে’ বলে তিনি যাননি। তবে, স্ত্রী-সন্তানদের বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।
এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কয়েক হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন পলক। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার নাম ভাঙিয়ে তিনি স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন তথ্য প্রযুক্তি খাতে। একের পর এক প্রকল্প বানিয়ে বাজেট থেকে শত শত কোটি টাকা লোপাট করেন। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দেশের বাইরেও পাঁচার করেছেন পলক।
শুধু পলক নয়, হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তার স্ত্রী আরিফা জেসমিন কনিকাও। পেশায় স্কুল শিক্ষিকা হলেও গত ১০ বছরে তিনি কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। বিদেশেও এই দম্পতির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি রয়েছে। নামে-বেনামে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে পলক ও তার স্ত্রীর নামে।
সজীব ওয়াজেদ আইসিটির উপদেষ্টা হওয়ায় এ খাতে ছিল না কোনো জবাবদিহি। পলকের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলতে পারেনি।
বিডি/এন
































