নেপালে নির্বাচনে জিতে সরকার গড়ছে গণঅভ্যুত্থানকারীরা
Published : ১৩:০৬, ৬ মার্চ ২০২৬
নেপালে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দেশটির ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রাথমিক ভোট গণনায় কাঠমাণ্ডুর মেয়র Balen Shah–এর নেতৃত্বাধীন Rastriya Swatantra Party (আরএসপি) উল্লেখযোগ্য সাফল্যের আভাস দিয়েছে।
দেশের অন্তত ৪৪টি আসনে দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে থাকায় সরকার গঠনের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। ভোট গণনা এখনও চলমান রয়েছে এবং ঝাপা-৫ আসনে বালেন শাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও Communist Party of Nepal (Unified Marxist–Leninist)–এর চেয়ারম্যান K. P. Sharma Oli–কে পেছনে ফেলে এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। এ তথ্য জানিয়েছে Hindustan Times।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরএসপি মূলত জেন জি প্রজন্মের সমর্থনকে কেন্দ্র করে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। গত বছরের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ঢেউ থেকেই দলটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি, প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর সমালোচনা এবং তরুণ ভোটারদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার কৌশলের মাধ্যমে বালেন শাহ অল্প সময়েই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেপালের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়। গত বছর জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে পুলিশের দমন-পীড়নে ৭৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সেই আন্দোলনের তীব্রতার মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়েছিল।
নেপালের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট গণনা শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রথমে ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট পদ্ধতিতে নির্বাচিত আসনগুলোর ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এরপর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে পাওয়া ভোট গণনা শুরু করা হবে।
প্রাথমিক ফলাফলের চিত্র
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দেশজুড়ে অন্তত ৩৫টির বেশি আসনে আরএসপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। দলটির চেয়ারম্যান Rabi Lamichhane চিতওয়ান-২ আসনে লিডে আছেন। অন্যদিকে বালেন শাহ ঝাপা–৫ আসনে এগিয়ে রয়েছেন।
কাঠমাণ্ডুর ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৭, ৮ এবং ১০ নম্বর আসনে আরএসপি প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। এছাড়া ভক্তপুর–১ ও ভক্তপুর–২ আসনেও দলটির প্রার্থীরা লিডে রয়েছেন। একই সঙ্গে মোরাং, ধানুশা, রৌতাহাট, বারা, ললিতপুর, কাস্কি, রূপান্দেহি, দাং, ব্যাংকে ও কান্চনপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি আসনেও আরএসপি প্রার্থীরা এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে।
ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৬০ শতাংশ
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৬০ শতাংশের কাছাকাছি। বিশেষ করে জেন জি প্রজন্মের ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র Narayan Prasad Bhattarai বলেন, রাজনৈতিক দল, ভোটার, সরকার এবং গণমাধ্যমসহ সব পক্ষের সহযোগিতায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগের আন্দোলনের পরও তরুণ ভোটাররা ইতিবাচকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে।
জেন জি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালে নেপালে দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধিনিষেধের প্রতিবাদে হাজার হাজার তরুণ রাস্তায় নেমে আসেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন শিক্ষার্থী।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধান বিচারপতি Sushila Karki অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নজির গড়েন।
নেপালের নির্বাচন পদ্ধতি
নেপালের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা মিশ্র নির্বাচনী পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচিত হন। ভোটাররা দুটি ব্যালট দেন—একটি নিজ নিজ আসনের প্রার্থীর জন্য এবং অন্যটি একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে। মোট ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় এবং বাকি ১১০টি আসন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে বণ্টন করা হয়। এই ১৬৫টি আসন আবার দেশটির সাতটি প্রদেশে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
বিডি/এএন

































