সারাদিন ঘুমালে কি রোজার কোনো ক্ষতি হয়?

সারাদিন ঘুমালে কি রোজার কোনো ক্ষতি হয়? ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:৩০, ৬ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস প্রতি বছরই মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। এ মাসে সাধারণত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগিতে বেশি মনোযোগী হতে দেখা যায়।

কারণ এই মাসেই মহানবী Muhammad (সা.)-এর ওপর পবিত্র Qur'an নাজিল হওয়া শুরু হয়েছিল। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (Surah Al-Baqarah: ১৮৩)।

এই আয়াতের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে রোজা রাখার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করা। তবে বর্তমান সময়ে অনেকের মধ্যে একটি প্রবণতা দেখা যায়—সেহরি খাওয়ার পর দিনের বড় একটি অংশ অতিরিক্ত ঘুমের মধ্যে কাটিয়ে দেওয়া। তাই প্রশ্ন উঠতে পারে, ইসলামের দৃষ্টিতে বিষয়টি কতটা গ্রহণযোগ্য?

ইসলাম ঘুমকে মানুষের একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম।” (Surah An-Naba: ৯)। অর্থাৎ মানুষের জন্য ঘুম এক ধরনের নিয়ামত ও আরামের ব্যবস্থা। তবে ইবাদতের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ঘুমিয়ে থাকা এবং ফরজ-ওয়াজিব আমলে অবহেলা করা ইসলামের দৃষ্টিতে সমর্থনযোগ্য নয়।

রমজান মাসে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ইত্যাদি বিশেষ ইবাদত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় নেক আমল হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই পুরো সময় যদি ঘুমের মধ্যেই কেটে যায়, তাহলে রোজার যে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষা রয়েছে, সেখান থেকে মানুষ বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মূলত ইসলামের দৃষ্টিতে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার নামই রোজা। তাই কেউ সেহরি খেয়ে রোজার নিয়ত করে দিনের বড় সময় ঘুমিয়ে কাটালেও তার রোজা আদায় হয়ে যাবে। তবে নামাজ একটি স্বতন্ত্র ফরজ ইবাদত; নামাজ ত্যাগ করলে বা অবহেলা করলে অবশ্যই গুনাহগার হতে হবে।

যদি রোজা রেখে অতিরিক্ত ঘুম এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কাযা হয়ে যায়, কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব বা পারিবারিক কর্তব্য অবহেলিত হয়, তাহলে তা গুনাহের কারণ হতে পারে। কারণ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। রোজা কখনোই নামাজ বা অন্যান্য ফরজ দায়িত্ব পালনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। বরং রোজা মানুষের মধ্যে আত্মসংযম, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে তোলে।

সুতরাং বলা যায়, রোজা রেখে ঘুমানো নিজে থেকে হারাম নয়। তবে যদি সেই ঘুম অতিরিক্ত হয়ে ইবাদত, নামাজ বা দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তা অনুচিত। রোজার প্রকৃত শিক্ষা হলো সংযম, ভারসাম্য ও সচেতনতার মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করা—এটাই ইসলামের মূল বার্তা।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement