বাংলোর ভেতর মাটিচাপা দেওয়া হয় ধর্ষণে নিহত দুই তরুণীকে
Published : ০১:০২, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মার্কিন ধনকুবের অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি নথি নতুন করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশ করা তথাকথিত ‘এপস্টেইন ফাইল’-এর একটি ইমেইলে উঠে এসেছে ভয়াবহ অভিযোগ, যা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ইমেইলের প্রেরক নিজেকে এপস্টেইনের সাবেক কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেছেন, নিউ মেক্সিকোর জোরো র্যাঞ্চ এলাকায় দুইজন ‘বিদেশি তরুণীর’ মৃত্যু হয়। পরে তাদের মরদেহ র্যাঞ্চের একটি বাংলোর মাটিতে পুঁতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এসব অভিযোগ এখনো যাচাই করা হয়নি এবং প্রকাশিত নথিতে সেগুলোকে কেবল অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
নথি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর পাঠানো ওই ইমেইলটি পরবর্তীতে এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রায় ৩০ লাখ নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করে, যার অংশ হিসেবেই এই ইমেইলটি সামনে আসে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইমেইল প্রেরকের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
ইমেইলে দাবি করা হয়, জোরো র্যাঞ্চে কর্মরত থাকার সময় এসব ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, এপস্টেইন এবং ‘ম্যাডাম জি’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির নির্দেশেই দাফনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ ইমেইলের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না।
নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, ইমেইলের প্রেরক কিছু ভিডিও ফুটেজের লিংকের কথা জানান এবং সেগুলোর বিনিময়ে অর্থ দাবি করেন। এপস্টেইনের মৃত্যুর কয়েক মাস পর এফবিআই এই ইমেইলটি পায়। উল্লেখ্য, জেফ্রি এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান।
প্রকাশিত দলিলপত্রে এপস্টেইনের সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যও উঠে এসেছে। জোরো র্যাঞ্চটি তিনি ১৯৯৩ সালে কিনেছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেটি তার মালিকানায় ছিল। পরে র্যাঞ্চটি বিক্রি করে দেওয়া হয়। দুর্গম অবস্থান ও গোপন যাতায়াতের কারণে জায়গাটি আগেও নানা আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, নথিতে থাকা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর হলেও যাচাই-বাছাই ছাড়া সেগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনে প্রকাশিত নথির ভিত্তিতে নতুন করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হতে পারে।
বিডি/এএন

































