সৌদি আরবসহ ৬ দেশের হুঁশিয়ারি, ইরানকে সতর্কবার্তা
Published : ১১:১০, ২ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)।
একই সঙ্গে জোটটি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজন হলে তারা সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
রোববার (১ মার্চ) জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলো অভিযোগ করে যে, সাম্প্রতিক ইরানি হামলায় তাদের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা দাবি করে, হামলার লক্ষ্যবস্তু শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, বেসামরিক অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকাও ছিল।
জিসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো—সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সৌদি আরব, ওমান, কাতার এবং কুয়েত।
জিসিসির এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইন অমান্যের অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে তেহরানকে দ্রুত সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলার সময় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। পরবর্তীতে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত হয়েছে বলে জানা যায়। এসব হামলার জেরে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
হামলার জবাবে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর ফলে ইসরাইলের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানা গেছে।
এদিকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের হতাহতের বিষয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে এলেও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–কে ঘিরে প্রকাশিত তথ্য এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিডি/এএন
































