আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই বিএনপিকর্মী
Published : ১৯:২২, ২ মার্চ ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে খাস পুকুরের মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির দুই কর্মীর মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) সকালে উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুইজন গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন গোয়ালপাড়া গ্রামের ইসমাইল (৭০) ও আব্দুস সালাম (৬০)। তারা উভয়েই ধামাইনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার সিদ্দিকের অনুসারী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত অনুযায়ী, গোয়ালপাড়া গ্রামের পাঁচ বিঘা আয়তনের খাস পুকুরটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। পুকুরটি বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সমর্থক আছমত আলী মসজিদের নামে লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে আসছিলেন।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপি নেতা আবু বক্কার সিদ্দিক তিন বছরের জন্য পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। সোমবার সকালে আবু বক্কার সিদ্দিকের লোকজন পুকুরে মাছ ধরার জন্য জাল ফেললে আছমত আলীর পক্ষের লোকজন বাধা দেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে হাসুয়া, দা ও লাঠিসোটা ব্যবহৃত হয়। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চারজন এবং বিএনপি সমর্থিত সাতজন গুরুতর আহত হন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর ২টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইসমাইল হোসেন এবং সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুস সালাম মারা যান।
ধামাইনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রমজান আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা চাষাবাদ করতেন। ৫ আগস্টের পর আবু বক্কার সিদ্দিক লিজ নেওয়ার পরও আছমত আলীর পক্ষ মাছ ধরতে দেয়নি।
সকালে পুকুরে মাছ ধরতে গেলে তাদের উপর হামলা চালানো হয়, যার ফলে দুইজন নিহত হন। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের পক্ষের কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি। রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, একই পুকুরকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালে ফজলার রহমান নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, পুকুর দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিএনপির দুই কর্মী মারা গেছেন। নিহতদের লাশ বর্তমানে হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করেছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বিডি/এএন


































