যুক্তরাষ্ট্র ইরানে প্রথমবারের মতো স্থলসেনা পাঠাচ্ছে
Published : ১৩:০১, ১৪ মার্চ ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আকাশ ও নৌ যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় এবার সরাসরি স্থল যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রথমবারের মতো প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা ইতোমধ্যে রণক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। বিষয়টি জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera।
এই অভিযানে মেরিন সেনাদের সহায়তায় রয়েছে অত্যাধুনিক উভচর যুদ্ধজাহাজ USS Tripoli (LHA-7)। বিশেষ প্রযুক্তিতে নির্মিত এই রণতরিটি সমুদ্র থেকে সরাসরি স্থলভাগে সেনা নামানোর পাশাপাশি আকাশপথে যুদ্ধ সহায়তাও দিতে সক্ষম।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই উভচর যুদ্ধজাহাজ থেকেই মেরিন সেনারা সরাসরি ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল বা গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থানে অবতরণ করতে পারে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই হবে কোনো মার্কিন স্থলবাহিনীর প্রথম সরাসরি রণক্ষেত্রে প্রবেশ।
31st Marine Expeditionary Unit মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ইউনিট হিসেবে পরিচিত। সাধারণত এই ইউনিটকে দ্রুত সাড়া দেওয়া বা সংকট মোকাবিলায় ব্যবহৃত বিশেষ বাহিনী হিসেবে ধরা হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর Pentagon সূত্রে জানা গেছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা কিংবা ইরানের কোনো নির্দিষ্ট কৌশলগত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলে এই স্থলসেনাদের ব্যবহার করা হতে পারে। USS Tripoli (LHA-7) থেকে ড্রোনের পাশাপাশি F-35B Lightning II যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করতে পারে, যা স্থল অভিযানে থাকা সেনাদের আকাশপথে সুরক্ষা ও সহায়তা দিতে সক্ষম।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন পর্যন্ত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা চলছিল। তবে এখন সরাসরি স্থলসেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাতের তীব্রতা আরও অনেকগুণ বাড়তে পারে।
এতে স্পষ্ট হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল সীমিত সামরিক আঘাতেই থেমে থাকতে চাইছে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি ও সর্বাত্মক সংঘাতের দিকেই পরিস্থিতি অগ্রসর হতে পারে।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা Islamic Revolutionary Guard Corps মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের খবরের পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হলে তা মার্কিন বাহিনীর জন্য এক বিশাল ‘কবরস্থান’-এ পরিণত হবে। অন্যদিকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক কমান্ড ইতোমধ্যে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিভিন্ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।
বিডি/এএন






























