যার যা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে স্বনির্ভর দেশ গড়ে তুলতে পারব: প্রধানমন্ত্রী
Published : ১৩:১৭, ১৪ মার্চ ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, নাগরিক হিসেবে যদি আমরা প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, তবে আমরা একটি সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি ছিল ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত এবং বিহার অধ্যক্ষদের সম্মানি কার্যক্রমের উদ্বোধন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠানে একত্রিত হয়েছেন এমন মানুষ যারা কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়া অন্যদের সম্মান করেন। জীবনের কঠিন সময় মানুষ যাদের কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ আশা করে, তারা সেই সহায়তা পেয়েও থাকে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যারা অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে, তাদের জন্য সম্মানি বা আর্থিক সহায়তা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বৈষম্য দূর করা সম্ভব।
এর ফলে আমরা সবাই মিলেমিশে শান্তি ও সহমর্মিতার সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদে ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার টাকা পাবেন।
প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে, যার মধ্যে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা। বৌদ্ধ বিহারের জন্যও ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে, যার মধ্যে বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা। প্রতি খ্রিস্টান চার্চের জন্যও ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পালক বা যাজক পাবেন ৫ হাজার এবং সহকারী পালক বা যাজক ৩ হাজার টাকা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ জানান, ধর্মীয় উৎসবের সময় মসজিদে কর্মরতদের প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ১ হাজার টাকা করে বছরে দুইবার, এবং দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিনের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে। তবে যেসব মসজিদ সরকারি বা দেশি-বিদেশি সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত, সেগুলো এই সুবিধার বাইরে থাকবে।
তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এই সম্মানী প্রদানের জন্য ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। প্রতিটি অর্থবছরে এই প্রকল্পের জন্য ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হবে এবং আগামী চার বছরে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রদান করা হবে। সম্মানী সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে কার্যক্রম চালু করা হবে।
বিডি/এএন

































