ইরানে ঢুকলেই কফিনে ফিরবে মার্কিন সেনা
Published : ১৪:৫৬, ২৯ মার্চ ২০২৬
ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের গুঞ্জন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির ইংরেজি দৈনিক ‘তেহরান টাইমস’-এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো মার্কিন সেনা যদি ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তবে তারা জীবিত ফিরে যেতে পারবে না—বরং ‘কফিনে’ করেই দেশে ফিরতে হবে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। এই খবর প্রকাশের পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন সম্ভাব্য ইরানবিরোধী স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে, যুদ্ধ এড়িয়ে তেহরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে, তবুও সেনা সংখ্যা বাড়ানোর এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আরও বেশি সামরিক বিকল্প দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব সেনাকে ইরানের মূল ভূখণ্ড এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের আশপাশে মোতায়েন করা হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে তেহরানের এক কর্মকর্তা বুধবার সতর্ক করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরান তাদের ইয়েমেনি মিত্র হুতি বিদ্রোহীদের আরও সক্রিয় করে তুলবে। এর ফলে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল আবারও ব্যাহত হতে পারে এবং সংঘাতের নতুন একটি ফ্রন্ট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো দাবি করে যাচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থলযুদ্ধে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে আলোচনাও ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।
অন্যদিকে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা তেহরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ‘ইরানি সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থার’ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। একই দিনে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করেও হামলা করা হয়।
এর জবাবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা নতুন করে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিডি/এএন
































