হরমুজ প্রণালিতে ৬ দেশের জাহাজে নিরাপত্তা দেবে ইরান, রয়েছে বাংলাদেশ

হরমুজ প্রণালিতে ৬ দেশের জাহাজে নিরাপত্তা দেবে ইরান, রয়েছে বাংলাদেশ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:৪৬, ২৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখন এই ঘোষণাকে বাংলাদেশের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমে যেভাবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ থাকার খবর প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তেমন নয়। বরং কিছু ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশ এবং সমন্বয়কারী রাষ্ট্রের জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, অনেক জাহাজ মালিক ও বিভিন্ন দেশ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, যাতে তারা নিরাপদে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করতে পারে। যেসব দেশকে ইরান বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করে অথবা বিশেষ অনুমতি দেয়, তাদের জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কাজ করছে।

রয়টার্স-এর বরাতে জানা গেছে, ওই সাক্ষাৎকারে আরাগচি চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত এবং বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সংবাদে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতের নাম এসেছে। কয়েকদিন আগে ভারতের দুটি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। এছাড়া আরও কিছু দেশ, এমনকি বাংলাদেশও ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। ভবিষ্যতেও, এমনকি যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যেসব দেশকে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে বা চলমান সংঘাতে জড়িত মনে করে, সেসব দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।

আরাগচি বলেন, বর্তমানে পুরো অঞ্চলই কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তাই শত্রু দেশ ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবে অন্য দেশগুলোর জন্য এই পথ খোলা থাকবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে কঠোর নজরদারি বজায় রাখায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং চাহিদা কমে যাওয়ার মতো প্রভাব দেখা দিচ্ছে। বিমান পরিবহন থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত নানা খাতে এর প্রভাব পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর ইরানে হামলার পর শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

শিপিং তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করে। কিন্তু ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময়ে মোট মাত্র ১৫৫টি জাহাজ চলাচল করেছে।

অন্যদিকে বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, এটি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ কম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ে চলাচল করা ১৫৫টি জাহাজের মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ও গ্যাসবাহী এবং এর বেশিরভাগই পূর্বমুখী ছিল। শুধু বুধবার (২৫ মার্চ) পশ্চিমমুখী হয়ে এই প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র দুটি জাহাজ।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ-এর জন্য হরমুজ প্রণালিতে আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল চালু থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement