বৃহত্তর সরকার গঠনে আলোচনায় রাজি নেতানিয়াহু, নেতৃত্ব নিজের হাতে চান
Published : ১১:১১, ৩ নভেম্বর ২০২৬
ইসরায়েলে বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে নতুন সরকার গঠিত হলে তার নেতৃত্ব নিজের হাতেই রাখতে চান তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, লিকুদ পার্টি তার রাজনৈতিক অংশীদারদের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না—এমন যেকোনো দলের সঙ্গে বৃহত্তর সরকার গঠনে আগ্রহী। এ বিষয়ে আলোচনায় বসতেও তিনি প্রস্তুত।
দুই আরব পার্লামেন্টারি জোট রা'আম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার ইসরায়েলের জনগণ চায় না বলেও দাবি করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, প্রথম দিন থেকেই বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে তারা আলোচনার সুযোগ দিয়ে আসছেন।
গত সপ্তাহের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পরও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জনসমর্থন নিজের রয়েছে বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু। তার ভাষ্য, ইহুদি জনগোষ্ঠীর স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ লিকুদকে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে বেছে নিয়েছে এবং পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন জানিয়েছে।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের টুগেদার পার্টি, ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু পার্টি পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটের নাম সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকোটের পক্ষে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন রয়েছে। পার্লামেন্টের দুটি আরব জোটও তাকে সমর্থনের সুপারিশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ১২০ সদস্যের নেসেটে তার প্রতি সমর্থন বেড়ে ৬৭ জনে দাঁড়াতে পারে।
গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
তবে প্রেসিডেন্টের কাছে কোনো আইনপ্রণেতার নাম সুপারিশ করলেই সরকার গঠন নিশ্চিত হয় না। লিবারম্যান ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, আরব দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে কিংবা তাদের সংসদীয় সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকারে তিনি যোগ দেবেন না।
বুধবার থেকে প্রেসিডেন্ট হারজগ পার্লামেন্টের বিভিন্ন দলের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী পরামর্শ শুরু করবেন। এরপর পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে একজন আইনপ্রণেতাকে মনোনীত করবেন তিনি।

































