এল নিনোর প্রভাবে বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
Published : ১৮:৩২, ১ নভেম্বর ২০২৬
এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট বন্যা ও খরার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। শনিবার দেওয়া এ ঘোষণার মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত এলাকায় দ্রুত অর্থ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবহারের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর এএফপির।
এল নিনোর প্রভাবে বলিভিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কোথাও বন্যা, আবার কোথাও খরা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পাজ।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আরও বেশি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর নির্দেশনাও রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এল নিনোর প্রভাবে খরা ও বন্যার মতো পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এ সংকট মোকাবিলায় সব সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত সরকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলিভিয়ার ৯টি প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে ৬টিতে খরার কারণে প্রায় ৭৮ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই কারণে দেশটিতে ৭৫ হাজারের বেশি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ঘটনা। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে।
চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাবে লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক দুর্যোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বলিভিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পেরুতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এসব দাবানলে ইতিমধ্যে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রতিবেশী চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে চলতি বছরের অক্টোবরে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়ার ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল অক্টোবর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

































