সুইজারল্যান্ডে রাইন নদীর তীর থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার

সুইজারল্যান্ডে রাইন নদীর তীর থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১৪:২৩, ১ নভেম্বর ২০২৬

সুইজারল্যান্ডের আর্গাউ ক্যান্টনের স্টেইন এলাকায় রাইন নদীর তীর থেকে এক ব্যক্তির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর রুমমেট এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্লু নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নিহত ৩৩ বছর বয়সী ব্যক্তি বুরুন্ডির নাগরিক। তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৪ অক্টোবর পরিচিত ব্যক্তিরা ওই ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার খবর জানান। পরদিন তাঁরাই রাইন নদীর তীরে মানুষের দেহাবশেষ খুঁজে পান। নিহত ব্যক্তি যে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতেন, সেটি মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে খুব বেশি দূরে নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির দেহ বিভিন্ন অংশে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পরে সেগুলো আবর্জনার ব্যাগে ভরে রাইন নদী ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেহাবশেষগুলো নিখোঁজ ওই ব্যক্তির বলে শনাক্ত করে ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউট।

ঘটনার অস্বাভাবিক ধরন এবং আশ্রয়কেন্দ্রের কয়েকজন বাসিন্দার আচরণ তদন্তকারীদের সন্দেহের জন্ম দেয়। পরে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আশ্রয়কেন্দ্র, মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালায় আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশ। জব্দ করা আলামতের ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তির একই কক্ষে থাকা ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে সন্দেহ জোরালো হয়। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাইনফেলডেন-লাউফেনবুর্গ জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয় এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। সন্দেহভাজনকে বিচার-পূর্ব আটক রাখার আবেদনও জানিয়েছে তারা। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট ঘটনাক্রম ও উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এ অপরাধের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উদ্দেশ্যের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার লক্ষণ দেখা গেছে। এসব সমস্যার সঙ্গে অপরাধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নির্দোষ বলে বিবেচনা করা হবে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement