এনআইডি ও ভোটার নিবন্ধনে ইসির দুই নতুন পরিকল্পনা

এনআইডি ও ভোটার নিবন্ধনে ইসির দুই নতুন পরিকল্পনা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:৫৩, ৮ মার্চ ২০২৬

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে নতুন দুটি উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে এনআইডিতে নাগরিকের মূল নামের পাশাপাশি তার ‘ডাক নাম’ যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনো সম্মানিত বা বিশিষ্ট ব্যক্তির সুপারিশ বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।

রোববার (৮ মার্চ) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি উইং) মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অনেক সময় অপরাধীরা নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে ভুয়া তথ্য দিয়ে এনআইডি তৈরি করে থাকে। কিন্তু এনআইডিতে যদি ব্যক্তির ডাক নাম যুক্ত করা হয়, তাহলে পরিচয় গোপন করা কঠিন হয়ে পড়বে। এর ফলে নাগরিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল ও কার্যকর হবে।

এছাড়া বিদেশি নাগরিক বা রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ঠেকাতে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। মহাপরিচালক বলেন, ভোটার নিবন্ধনের ফরম-২ এ এমন একটি ঘর রাখা হচ্ছে, যেখানে আবেদনকারীর এলাকার কোনো সম্মানিত ব্যক্তির সুপারিশ দিতে হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির সুপারিশ বাধ্যতামূলক করা হলে রোহিঙ্গাসহ বিদেশি নাগরিকদের পক্ষে বাংলাদেশি ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ ওই এলাকার জনপ্রতিনিধি বা পরিচিত ব্যক্তিরাই যাচাই করে নিশ্চিত করবেন আবেদনকারী সত্যিই ওই এলাকার বাসিন্দা কি না।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বর্তমানে এনআইডি কার্ডে নাগরিকের নাম ও মা-বাবার নাম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘ডাক নাম’ ডেটাবেজে বিস্তারিতভাবে সংরক্ষিত থাকে না।

নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এনআইডির তথ্যভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি সুপারিশের বিষয়টি কার্যকর হলে মাঠ পর্যায়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজও আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement