মসজিদের পাশে কবর দিলে কি বিশেষ ফজিলত পাওয়া যায়?

মসজিদের পাশে কবর দিলে কি বিশেষ ফজিলত পাওয়া যায়? ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৩:১৪, ৮ মার্চ ২০২৬

প্রত্যেক প্রাণীরই একদিন মৃত্যু অবধারিত। পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া মানেই একসময় মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তাকে দাফনের মাধ্যমে কবরে সমাহিত করা হয়।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মৃত ব্যক্তির আত্মীয়স্বজন তাকে মসজিদের আশপাশে বা কাছাকাছি স্থানে দাফন করার চেষ্টা করেন।

অনেকের ধারণা, মসজিদের কাছাকাছি কবর হলে সেখানে দেওয়া আজান, নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরের সওয়াব মৃত ব্যক্তি লাভ করবেন।

কেউ কেউ মনে করেন, কবরস্থ ব্যক্তি আজানের ধ্বনি কিংবা কোরআন তেলাওয়াতও শুনতে পান। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে মসজিদের পাশে কবর দেওয়া বিশেষ কোনো সৌভাগ্যের বিষয় নয়।

মসজিদের পাশে বা আঙিনায় কবর দিলে কবরের আজাব কম হবে বা অতিরিক্ত সওয়াব পাওয়া যাবে—এমন কোনো কথা কোরআন কিংবা হাদিসে উল্লেখ নেই।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ মারা গেলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, শুধু তিনটি বিষয় ছাড়া—এক. সদকায়ে জারিয়া, দুই. এমন জ্ঞান যা থেকে মানুষ উপকৃত হয় এবং তিন. এমন নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৩১)।

এই বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে এক আলোচনায় বলেন, ‘মসজিদের পাশে কবর দেওয়ার আলাদা কোনো উপকারিতা আছে কি না—বিষয়টি আমরা দুইভাবে দেখতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমত, শরিয়তের আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মসজিদ বা মাদ্রাসার আঙিনায় কিংবা পাশে কবর দিলে বিশেষ কোনো ফজিলত পাওয়া যায়—এমন কোনো কথা কোরআন-হাদিসে উল্লেখ নেই। কোথাও বলা হয়নি যে, সেখানে কবর দিলে অতিরিক্ত সওয়াব বা বিশেষ মর্যাদা অর্জিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে কবরস্থান যদি মসজিদের আশপাশে থাকে, সেটি ভালো। কারণ এতে মসজিদের মুসল্লিরা সহজেই কবর জিয়ারত করতে পারেন এবং কবরবাসীদের জন্য নিয়মিত দোয়া করার সুযোগ পান।

তাই কবরস্থান মসজিদের কাছাকাছি হলে তা সুবিধাজনক। কিন্তু কবরস্থান যদি দূরে থাকে, তখন মসজিদ বা মাদ্রাসার পাশে আলাদা করে একটি কবর দেওয়া সুন্নাহ নয়। সুন্নাহ হলো সাধারণ মানুষের কবরের সঙ্গে একই কবরস্থানে দাফন করা। অর্থাৎ গণকবরস্থানে দাফন করাই উত্তম।’

তিনি বিষয়টির আরেকটি দিকও ব্যাখ্যা করেন। তার ভাষ্য, ‘দ্বিতীয়ত, অনেক সময় আল্লাহ তায়ালা বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণের জন্য বিভিন্ন উসিলা বা বাহানা সৃষ্টি করেন। ধরুন, কোনো মানুষের জীবনে অনেক গোনাহ রয়েছে এবং তিনি আল্লাহর রহমত লাভের আশা করেন।

তখন কেউ যদি এই সুধারণা থেকে মনে করেন যে, আল্লাহর ঘরের পাশে কবর হলে হয়তো আল্লাহ তার ওপর বিশেষ রহমত করবেন—তাহলে এটি মূলত আল্লাহর কাছে একটি আশা বা প্রার্থনা। আল্লাহ তায়ালা চাইলে তার প্রতি রহমত করতে পারেন।

এটাকে আমরা নিশ্চিতভাবে অস্বীকারও করতে পারি না, কারণ রহমত দেওয়া সম্পূর্ণ আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। তবে এ কথা সত্য যে, মসজিদের পাশে আলাদা করে কবর দেওয়া সুন্নাহ নয়।’

এদিকে ইসলামী স্কলার ড. সাইফুল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, মসজিদের কাছাকাছি কবরস্থান হওয়া উচিত নয়। কবরস্থান মসজিদ থেকে আলাদা স্থানে হওয়াই উত্তম। সমাজে অনেকেই মনে করেন, মসজিদের পাশে কবর হলে মৃত ব্যক্তি হয়তো মসজিদে হওয়া জিকির, কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদতের সওয়াব পেয়ে যাবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি এসবের কোনো সওয়াব পান না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement